খুঁজুন। বিয়ে করুন। ভালবাসুন। আজীবন।

Landing page down arrow

কিভাবে আপনি জীবনসঙ্গী খুঁজবেন?

  • tick markরেজিস্টার করুন নিজের বা পরিচিতজনের জন্য
  • tick markআপনার সকল তথ্য দিন
  • tick markসবগুলো ঘর ভালোভাবে পূরণ করুন
  • tick markকার্ড বা বিকাশে পে করুন
  • tick markপাত্র/পাত্রী খুঁজুন
  • tick markসম্পূর্ণ বায়োডাটা দেখার অনুরোধ করুন
  • tick markযোগাযোগের অনুরোধ করুন
  • tick markমেসেজ পাঠান
  • tick markদেখা করুন এবং বিয়ের সিদ্ধান্ত নিন

আমাদের সেবাসমূহ

Our-Services-icon-1-logo

সপ্তাহে ৭ দিন গ্রাহক সেবা

আমরা সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৬ টা পর্যন্ত গ্রাহক সেবা দিয়ে থাকি। আমাদের সাথে আপনারা ইমেইল, ফোন অথবা ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা চেষ্টা করি সকল সমস্যার সহজ এবং দ্রুত সমাধান করতে।

Our-Services-icon-2-logo

বিশেষ পরামর্শ

আমরা গ্রাহকদের আরও সুন্দরভাবে কিভাবে প্রোফাইলটি উপস্থাপন করতে পারে সে ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে থাকি। প্রিমিয়াম গ্রাহকদের চাহিদা সাপেক্ষে তাদের পছন্দের পাত্র বা পাত্রী খুঁজতে সাহায্য করে থাকি।

Our-Services-icon-3-logo

ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে সহযোগীতা

আমাদের ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে গ্রাহক আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন। যেকোনো ধরণের সমস্যা অথবা যেকোনো ধরনের প্রশ্নের উত্তর আমরা দিয়ে থাকি। এছাড়াও আমরা ফেসবুক পেইজে কিছু পাত্র বা পাত্রীর নিজের সম্পর্কে কিছু কথা পোস্ট করে থাকি।

Our-Services-icon-4-logo

গোপনীয়তা ও বিশ্বস্ততার নিশ্চয়তা

আপনার অনুমতি ছাড়া ছবি, আসল নাম ও পূর্ণ প্রোফাইল কেউ দেখতে পারবে না। দুই ধাপে অনুমতি দেয়ার পরে গ্রাহক আপনার যোগাযোগের তথ্য পাবে। আমরা প্রত্যেকের মোবাইল নম্বর ভেরিফাই করি। আপনার অভিযোগ বা সন্দেহজনক তথ্য পেলে নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ নেই।

সফল বিয়ের গল্প

আপনার প্ল্যান নির্বাচন করুন

সুবিধাসমূহ

মেয়াদ
প্রযোজ্য নয়
শর্ট প্রোফাইল দেখুন
Tick icon
বায়োডাটার অনুরোধ গ্রহণ
Tick icon
যোগাযোগের অনুরোধ গ্রহণ
Tick icon
যোগাযোগের অনুরোধ প্রেরণ
Cross icon
বায়োডাটার অনুরোধ প্রেরণ
Cross icon
বায়োডাটা ডাউনলোড
Cross icon
সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন
Cross icon
বিশেষজ্ঞ সেবা (চাহিদা সাপেক্ষে)
Cross icon
সুপারিশ (চাহিদা সাপেক্ষে)
Cross icon

সুবিধাসমূহ

মেয়াদ
১ মাস
শর্ট প্রোফাইল দেখুন
Tick icon
বায়োডাটার অনুরোধ গ্রহণ
Tick icon
যোগাযোগের অনুরোধ গ্রহণ
Tick icon
যোগাযোগের অনুরোধ প্রেরণ
বায়োডাটার অনুরোধ প্রেরণ
ইচ্ছেমতো
বায়োডাটা ডাউনলোড
Tick icon
সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন
Tick icon
বিশেষজ্ঞ সেবা (চাহিদা সাপেক্ষে)
Tick icon
সুপারিশ (চাহিদা সাপেক্ষে)
Cross icon

সুবিধাসমূহ

মেয়াদ
৩ মাস
শর্ট প্রোফাইল দেখুন
Tick icon
বায়োডাটার অনুরোধ গ্রহণ
Tick icon
যোগাযোগের অনুরোধ গ্রহণ
Tick icon
যোগাযোগের অনুরোধ প্রেরণ
২৫
বায়োডাটার অনুরোধ প্রেরণ
ইচ্ছেমতো
বায়োডাটা ডাউনলোড
Tick icon
সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন
Tick icon
বিশেষজ্ঞ সেবা (চাহিদা সাপেক্ষে)
Tick icon
সুপারিশ (চাহিদা সাপেক্ষে)
Tick icon

সুবিধাসমূহ

মেয়াদ
৬ মাস
শর্ট প্রোফাইল দেখুন
Tick icon
বায়োডাটার অনুরোধ গ্রহণ
Tick icon
যোগাযোগের অনুরোধ গ্রহণ
Tick icon
যোগাযোগের অনুরোধ প্রেরণ
৬০
বায়োডাটার অনুরোধ প্রেরণ
ইচ্ছেমতো
বায়োডাটা ডাউনলোড
Tick icon
সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন
Tick icon
বিশেষজ্ঞ সেবা (চাহিদা সাপেক্ষে)
Tick icon
সুপারিশ (চাহিদা সাপেক্ষে)
Tick icon

ব্লগ

বিবাহিত জীবনে কেন অশান্তি আসে?

blog-image-1
বিয়ের পরে সাধারণত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অনেক ভালবাসা, আন্তরিকতা, প্রেম, মায়া-মহব্বত হওয়ার কথা। কিন্তু তা না হয়ে শুরু হয় মনমালিন্য, একে অপরের প্রতি অশ্রদ্ধা, অভিমান অবশেষে ডিভোর্স। কেন দাম্পত্য জীবনে এই অশান্তি? অথচ মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন বিয়ে সম্পর্কে বলেছেন, “আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা রুম : আয়াত ২১) অর্থাৎ বিয়ের দ্বারা মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করে দিবেন এর জন্য আমাদেরকে মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন এর কাছে দোয়া করতে হবে। মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিনের দয়া ব্যতিত বিবাহিত জীবনে শান্তি সম্ভব নয়। তারপরও আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে। আল্লাহ্‌র হুকুম এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাহিহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহ মোতাবেক বিয়ের পর্বগুলো সম্পন্ন করতে হবে। তাহলে আশা করা যায় যে, তিনি আমাদের জন্য শান্তির ফয়সালা করে দিবেন। বিয়েতে যেসব কারণে অশান্তি হতে পারে বা যেসব বিষয়ে সতর্ক হওয়া দরকার তা নিয়ে আমাদের নিজেদের কিছু অভিজ্ঞতার কথা আপনাদেরকে জানাচ্ছি যাতে আমরা সচেতন হতে পারি। বিয়ের সময় তথ্য গোপন করাঃ মেয়ের বাবা মেয়ে বড় হওয়ার পর থেকে তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য অস্থির হয়ে উঠে। মেয়ে যেন সংসারের বোঝা, তাকে বিদায় না করা পর্যন্ত যেন সবার ঘুম হারাম হয়ে যায়। তাই বিয়ের ব্যপারে কোন প্রতিষ্ঠিত, ভাল ছেলে পেলেই তার সাথে বিয়ে দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। আর পাত্র পক্ষ যখন পাত্রী সম্পর্কে কোন তথ্য যাচাই করার চেষ্টা করে তখন মেয়ের অভিভাবকেরা তথ্য গোপন করে। আর এর ফলে যখন বিয়ের পরে সব জানাজানি হয়ে যায় তখন শুরু হয় অশান্তি, একে অপরের প্রতি অশ্রদ্ধা। যার ফলে অশান্তির আর সীমা থাকেনা। একইভাবে কোন পাত্র পক্ষ যখন পাত্রী পক্ষের কাছে তথ্য গোপন করে বা কম-বেশি করে উপস্থাপন করে তখনও একই অবস্থা শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রে কেউ মেনে নিয়ে চলার চেষ্টা করে কিন্তু সুযোগ পেলেই শুরু হয় বাক-বিতন্ডা।   বর-কনে সম-পর্যায়ের না হওয়াঃ বিয়ের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপুর্ন বিষয় হল, উভয় পক্ষের মধ্যে সম-পর্যায়ের বা কাছাকাছি হওয়া। যেমন, পাত্র- পাত্রীর বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, উচ্চতা, বংশ, সম্পদ , ইত্যাদি ব্যাপারে সামঞ্জস্য থাকা। কিন্তু বিয়ের ক্ষেত্রে অনেক সময় আবেগপ্রবণভাবে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় বা তথ্য গোপন করা হয়। যার ফলে বিয়ের পরে অনেক কিছুই মিলে না, শুরু হয় মনোমালিন্য। যেমন, অনেক ধনী লোকের সন্তান এর সাথে গরীবের বিয়ে বা উচ্চশিক্ষিত ছেলের সাথে অশিক্ষিত বা অনেক কম শিক্ষিত মেয়ের বিয়ে। পারিবারিক মর্যাদার দিকটাও গুরুত্বপূর্ণ। আর এসব কারণে শুরু হয় আরেক ধরনের অশান্তি। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে এই সমতার বিষয়টি খুব খেয়াল রাখা উচিত। বিয়েতে সমতা প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিয়েছেনঃ তোমরা ভবিষ্যত বংশধরদের স্বার্থে উত্তম মহিলা গ্রহণ করো এবং সমতা (কুফু) বিবেচনায় বিবাহ করো, আর বিবাহ দিতেও সমতার প্রতি লক্ষ্য রাখো। [সুনানে ইবনে মাজাহঃ ১৯৬৮, বিয়ে পর্ব] পাত্রের আর্থিক এবং শারীরিক যোগ্যতার ব্যাপারে সচেতন না থাকাঃ বিয়ের জন্য একজন পুরুষকে অবশ্যই আর্থিক এবং শারীরিকভাবে যোগ্যতা সম্পন্ন হতে হবে অর্থাৎ আর্থিকভাবে সংসারের ভরণপোষণের যোগ্যতা যেমন থাকতে হবে ঠিক তেমনি শারীরিকভাবে যোগ্য হতে হবে। সন্তান উৎপাদন এবং লালন পালনের জন্য একজন পাত্রীরও অনুরূপ যোগ্যতা থাকতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারাই স্ত্রীর অধিকার আদায়ে সামর্থ্য রাখে, তারা যেন অবশ্যই বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়”। (বুখারি) এই আর্থিক এবং শারীরিক যোগ্যতা না থাকলেও অশান্তি শুরু হয়, যা ডিভোর্স পর্যন্ত গড়ায়। বিয়ের পূর্বে যৌতুক-উপহার এর পাশাপাশি দেনমোহরের এর ব্যাপারেও স্পষ্ট আলোচনা না থাকলেঃ বিয়েতে যৌতুক বা উপহার দেওয়া বা নেওয়ার ব্যাপারে ইশারা ইঙ্গিতে অনেক কিছুই পাত্রী পক্ষ বলে থাকে বা আশ্বাস দিয়ে থাকে, কিন্তু বাস্তবতার সাথে অনেক ক্ষেত্রেই তার খুব মিল পাওয়া যায় না। এসব ব্যাপারেও মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। অপরদিকে দেনমোহরের ব্যাপারটিতে আরও অবহেলা করা হয়। পুর্ব প্রস্তুতি বা আলোচনা ছাড়াই বিয়ের আসরে দেনমোহরের ব্যাপারে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। কনে পক্ষে বলে একরকম, আর বর পক্ষে বলে একরকম। ফলাফল, বাক বিতন্ডার পরে   সমঝোতার মাধ্যমে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এসব ক্ষেত্রেও বর পক্ষকে পূর্ন স্বাধীনতা দিতে হবে, তাকে চিন্তা ভাবনা করার সময় ও সুযোগ দিতে হবে। বিয়ের দিনের পূর্বেই উভয় পক্ষ বসে দেনমোহরের পরিমাণ নির্ধারন করতে হবে। কারণ দেনমোহর একটি অবশ্যই প্রদেয় ঋণ। তাই বিয়েতে যেমন যৌতুক বা উপহার দেওয়ার ব্যাপারে মিথ্যা আশ্বাস বা অতিরঞ্জিত কিছু বলা ঠিক হবেনা, একইভাবে দেনমোহরের ব্যাপারেও পূর্ব থেকে আলোচনা করে, বরের সামর্থ্য অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে যাতে সহজেই তা আদায় করতে পারে। উভয়কে আলোচনার  পর্যাপ্ত সময় সুযোগ না দেওয়াঃ ছেলে-মেয়ের অমতে বিয়ে দিলে বা জোর করে বিয়ে দিলে সবচেয়ে বেশি অশান্তি শুরু হতে পারে। আমরা অনেক সময় শিক্ষিত আর প্রতিষ্ঠিত ছেলে পেলে মেয়ের অমতে বা তাঁর কোন মতামতকে গুরুত্ব না দিয়েই বিয়ে দিয়ে দেই। কিন্তু মেয়েটি বাবা মায়ের দিকে তাকিয়ে বিয়েকে মেনে নেয়। অথচ তাঁর অন্তরে বাস করছে অন্য কেউ, এর ফলে অন্তর দিয়ে সে তাঁর স্বামীকে মেনে নিতে পারেনা। আর এই দূরত্ব এক সময় জীবনে অনেক বড় ক্ষতি বয়ে আনে। তাই বিয়ের পূর্বে ছেলে-মেয়ের পছন্দ-অপছন্দের বিষয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা করার সুযোগ দিতে হবে। একই ঘটনা ছেলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অতএব, আমাদের বিয়ের ক্ষেত্রে এসব বিষয় গুরুত্ব প্রদান করতে হবে, তাহলে আমরা আশা করতে পারি আমাদের বিবাহিত জীবন শান্তির হবে, সফল হবে। এছাড়া, দাম্পত্য জীবনে খারাপ সম্পর্কে থেকে বের হতে হলে এই ব্লগ থেকেও কিছু পরামর্শ পেতে পারেন।

ওয়ালিমা কী, কেন করতে হবে?

blog-image-2
বিয়ে আমাদের জীবনে অতীব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আর বিয়ের মধ্যে যত সামাজিকতা বা জরুরী বিষয় আছে ওয়ালিমা তাদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিয়ের পর ছেলের পক্ষে আত্বীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধব, শুভাকাংখী ও গরীব মিসকীনদের তৌফিক অনুযায়ী আপ্যায়ন করাকে ইসলামী পরিভাষায় ওয়ালিমা বলে। আমাদের সমাজে বা বাংলা ভাষায় যাকে বৌভাত বলে। বিয়ের পরদিন বা সুবিধামত সময়ে ওয়ালিমা করা যেতে পারে। তবে তিন দিনের মধ্যে হওয়া উত্তম। ওয়ালিমার ব্যপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশ কি ছিল? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে ওয়ালিমা করতে বলেছেন। আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রহমান ইবনু আওফ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর গায়ে হলদে চি‎হ্ন দেখতে পেয়ে বললেন, কি ব্যাপার? তিনি বললেন, খেজুর বিচির পরিমাণ সোনার মোহরের বিনিময়ে আমি এক মহিলাকে বিয়ে করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আল্লাহ্ তোমাকে বরকত দান করুন। ওয়ালিমা কর, একটি বকরী দ্বারা হলেও।” (বুখারী: ১০৯৪) অতএব আমরা বুঝতে পারলাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে বিয়ের পর ওয়ালিমা করতে উৎসাহিত করছেন। বাসর রাতের পরদিন ওয়ালিমা করা সুন্নাতঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জয়নাব বিনতে জাহাশ (রাঃ) এর সাথে বাসর রাত অতিবাহিত করার পর ওয়ালিমা করেছিলেন। (বুখারী:৫১৭০) তবে তিন দিন পর্যন্তও বিলম্বিত করা যায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাফিয়া (রাঃ) কে বিবাহের পর তিন দিন পর্যন্ত ওয়ালিমা খাইয়ে ছিলেন। (মুসনাদে আবু ইয়ালা:৩৮৩৪) ওয়ালিমা করতে হবে সামর্থ্য অনুযায়ীঃ ওয়ালিমায় প্রচুর খরচ করতে হবে এবং খুব সুস্বাদু এবং দামী খাবার পরিবেশন করতেই হবে এরূপ জরুরী নয়। বরং যে বিয়েতে কম খরচ হয় সেই বিয়েকে বরকতময় বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “নিশ্চয়ই সে বিয়ে বেশি বরকতময়, যে বিয়েতে খরচ কম হয়।” (মুসনাদে আহমাদ) কিন্তু আমাদের বর্তমান সমাজে এই সুন্নাত ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। প্রতিযোগিতা করে বিয়েতে খরচ করা হয়। অতিরিক্ত জাঁকজমক এবং অপচয় করা হয় যা সুন্নাত বিরোধী। তবে সামর্থ্য থাকলে কেউ ওয়ালিমায় অনেক খরচ করতেও পারে। যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জয়নাব বিনতে জাহাশ (রাঃ) এর সাথে বিয়ের ওয়ালিমায় অনেক বেশি রুটি গোস্ত দ্বারা তৃপ্তি সহকারে সাহাবাদেরকে খাওয়াইয়েছিলেন। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) বলেন, রাসুলুলাহ (সাঃ) যখন জয়নব বিনতে জাহাশ (রাঃ) কে বিয়ে করলেন, তখন ওয়ালিমা করালেন এবং মানুষকে রুটি গোস্ত দ্বারা তৃপ্তি সহকারে খাওয়ালেন।” (বুখারীঃ ৪৭৯৪) কিন্তু এসব বিয়েতে না ছিল কোন অপব্যয় বা অপচয়। আবার, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুব সাধারণ খাবার দিয়েও ওয়ালিমা করেছিলেন। যেমন তিনি যখন সাফিয়া (রাঃ) কে বিয়ে করেন তখন ওয়ালিমা করেছিলেন খুব সাধারণ খাবার দিয়ে। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) বলেন, খায়বার থেকে ফিরে আসার সময় রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খায়বার এবং মদীনার মধ্যস্থলে তিন দিন অবস্থান করলেন এবং ছাফিয়া (রাঃ) কে সেখানে নিয়ে যাওয়া হল। তিনি ওয়ালিমার ব্যবস্থা করলেন আর আমি মুসলিমদের তাঁর ওয়ালিমার জন্য দাওয়াত করলাম। এই ওয়ালিমায় রুটি গোশত কিছুই ছিলনা। এই ওয়ালীমার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চামড়ার দস্তরখান বিছানোর আদেশ করলেন। অতঃপর এই দস্তরখানের উপর খেজুর, পনির ও ঘি ঢেলে দেওয়া হল। (বুখারীঃ৫৩৮৭, মিশকাতঃ ৩২১৪) বিয়ে সংক্রান্ত আরো কিছু জরুরী বিষয়ঃ এছাড়া বিয়ে সংক্রান্ত আরো অনেক সুন্নাত আছে। যেমন বিয়ে হতে হবে অনাড়ম্বর ও সাদাসিধে। অপব্যয়, অপচয় ও বিজাতীয় সংস্কৃতিমুক্ত হওয়া, যৌতুকের শর্ত না থাকা এবং সামর্থ্যের অধিক দেনমোহর ধার্য না করা বা শর্ত না দেওয়া। (আবু দাউদঃ ২১০৬) কনে পক্ষে থেকে অলংকারের শর্ত করা নিষেধ আর ছেলের পক্ষ থেকে যৌতুক চাওয়া হারাম। (আহসানুল ফাতওয়া, খন্ড-৫, পৃষ্ঠা-১৭) ওয়ালিমা এর দাওয়াতে উপস্থিত হওয়া উচিৎ কিনা? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই প্রসঙ্গে বলেন, “তোমাদেরকে যদি দাওয়াত করা হয় তাতে আসবে”- (তিরমিজিঃ১০৯৮) অর্থাৎ ওয়ালিমার দাওয়াত পেলে উপস্থিত হওয়া ওয়াজিব। তবে বর্তমান জামানায় যেভাবে বিয়ের অনুষ্ঠানে সুন্নাত বিরোধী কাজ করা হয় তাতে আপত্তি আসছে এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার ব্যাপারে। ইবনে উছাইমান (রঃ) বলেন, আলেমগন বলেন, বিয়ের প্রথম দাওয়াত কবুল করা ওয়াজিব। অর্থাৎ প্রথম ওয়ালিমায়। যদি নিমন্ত্রনকারী কিম্বা তাঁর প্রতিনিধি কিম্বা কার্ড প্রদান করে নির্দিস্ট কোন ব্যক্তিকে দাওয়াত প্রদান করা হয়। তবে শর্ত হচ্ছে- এ অনুষ্ঠানে যেন শরিয়াত গর্হিত কোন কিছু না থাকে। আর যদি এ অনুষ্ঠানে শরিয়াত গর্হিত কোন কিছু থাকে তাহলে এর হুকুম ব্যাখ্যা সাপেক্ষঃ যদি ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে এই গর্হিত কাজে নিষেধ করা সম্ভবপর হয় তাহলে এ ব্যক্তির জন্য উপস্থিত হওয়া ওয়াজিব। আর যদি উপস্থিত হয়ে এ কাজে বাধা প্রদান সম্ভব না হয় তাহলে তাঁর জন্য এখানে উপস্থিত হওয়া নাজায়েজ। (islamicqa.info ) বিনা দাওয়াতে ওয়ালীমা খেতে আসা যাবে কী? বিনা দাওয়াতে ওয়ালিমা এর খানা খাওয়া যাবেনা। আবূ মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ শুআয়ব নামে এক ব্যক্তি তার গোশত ওয়ালা গোলামকে গিয়ে বলল, পাঁচ জনের জন্য যথেষ্ট হয় সে পরিমাণ খাবার তৈরী কর। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (দাওয়াতে যাওয়ার জন্য) উঠলেন তখন এক ব্যক্তি যে দাওয়াত করার সময় তাদের সঙ্গে ছিল না, তাদের পিছনে পিছনে চলল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তার দরজায় এসে পৌঁছেলেন, তখন বাড়ীওয়ালাকে বললেন, একজন লোক আমাদের অনুসরণ করেছে, যে দাওয়াতের সময় আমাদের সঙ্গে ছিলনা। এখন যদি অনুমতি দাও তবে সে প্রবেশ করতে পারে। আবূ শুআয়ব বললেন, আমি তাকে অনুমতি দিলাম, সে প্রবেশ করুক। ( তিরমিজিঃ ১০৯৯, আল মাদানী প্রকাশনী) ওয়ালিমা কার পক্ষ থেকে হবে? ওয়ালিমা হবে ছেলের পক্ষ থেকে। আর কনের পক্ষ থেকে যে ওয়ালিমা এর আয়োজন করা হয় তা শরিয়াত সম্মত নয়। বিয়েতে মেয়ের পক্ষ থেকে কোনরূপ খরচ করার কথা নয়। তবে যেটা মেয়ের পক্ষ থেকে করে থাকেন তা সৌজন্যমুলক আপ্যায়ন মাত্র। শর্ত দিয়ে, বর যাত্রীর সংখ্যা বাড়িয়ে কনে পক্ষের উপর যে খরচের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয় যা সম্পূর্ণ কুপ্রথা ও অবশ্যই বর্জনীয়।   ওয়ালিমাতে উপহার বা হাদিয়া প্রদানঃ উপহার বা হাদিয়া দেওয়া বা নেওয়া উভয়ই সুন্নাত। কোন প্রকার শর্ত ছাড়া, স্বার্থ বিবেচনা না করে কার প্রতি অনুরাগী হয়ে যে দান বা উপঢৌকন প্রদান করা হয় তাকেই উপহার বা হাদিয়া বলে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিয়া প্রদান করতে উৎসাহিত করেছেন। “তোমরা হাদিয়া দাও, তোমাদের মধ্যে প্রীতির বন্ধন দৃঢ় হবে।”- তিরমিজি। হাদিয়া বা উপহার দেওয়ার জন্য বিশেষ কোন অনুষ্ঠান জরুরী নয়। যেকোন সময়, যে কাউকে হাদিয়া দেওয়া যেতে পারে। আবার হাদিয়া কোন ঋণ বা পাওনা নয়। অর্থাৎ হাদিয়া সাধ্য না হলেও কস্ট করে দিতেই হবে বা হাদিয়া না থাকলে বা না দিলে অনুষ্ঠানে যাওয়া যাবেনা আসলে ব্যপারটা এরূপ নয়। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, উত্তম বাক্য ও ক্ষমা প্রার্থনা ঐ দান অপেক্ষা শ্রেয়তর, যে দানের পর কষ্ট অনুগামী হয়। (সুরা বাকারাঃ ২৬৩) যিনি দাওয়াত প্রদান করেছেন তিনি যেন মনে না করেন যে মেহমানকে যেহেতু দাওয়াত দিয়েছি তাই তাঁর সাধ্য থাক আর না থাক হাদিয়া দিতেই হবে। কেউ যদি হাদিয়া ছাড়া অনুষ্ঠানে বা কারো কাছে যায় তাহলেও ঐ মেহমানকেও সম্মান করতে হবে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে আল্লাহ এবং আখিরাতের উপর ঈমান রাখে সে যেন তাঁর মেহমানকে সম্মান করে।”- তিরমিজি। অতএব আমরা এই আলোচনা থেকে জানতে পারলাম বিয়েতে ওয়ালিমা করতে হবে সাদাসিধাভাবে, তবে সাধ্য থাকলে ভাল খাবার এর আয়োজন করলে তাতে দোষের কিছু নেই, তবে অপব্যয়, অপচয় করা যাবেনা। বিজাতীয়, অপসংস্কৃতি, শরিয়াত বিরোধী কোন কিছু করা যাবেনা। ওয়ালিমা হবে ছেলের পক্ষ থেকে। ওয়ালিমা বিয়ের একটি জরুরী অংশ। আমাদেরকে বিয়েতে ওয়ালিমা করতে হবে। ওয়ালিমা এর ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে নির্দেশনা দিয়েছেন সেগুলো মেনে চলার চেষ্টা করতে হবে।