বাকী জীবনের জন্য কাকে আপনি সারা জীবন ধরে খুঁজছেন?

Landing page down arrow

কিভাবে আপনি জীবনসঙ্গী খুঁজবেন?

  • tick markরেজিস্টার করুন নিজের বা পরিচিতজনের জন্য
  • tick markআপনার সকল তথ্য দিন
  • tick markসবগুলো ঘর ভালোভাবে পূরণ করুন
  • tick markকার্ড বা বিকাশে পে করুন
  • tick markপাত্র/পাত্রী খুঁজুন
  • tick markসম্পূর্ণ বায়োডাটা দেখার অনুরোধ করুন
  • tick markযোগাযোগের অনুরোধ করুন
  • tick markমেসেজ পাঠান
  • tick markদেখা করুন এবং বিয়ের সিদ্ধান্ত নিন

আমাদের সেবাসমূহ

Our-Services-icon-1-logo

সপ্তাহে ৭ দিন গ্রাহক সেবা

Our-Services-icon-2-logo

বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

Our-Services-icon-3-logo

ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে সহযোগীতা

Our-Services-icon-4-logo

গোপনীয়তা ও বিশ্বস্ততার নিশ্চয়তা

সফল বিয়ের গল্প

আপনার প্ল্যান নির্বাচন করুন

সুবিধাসমূহ

মেয়াদ
প্রযোজ্য নয়
শর্ট প্রোফাইল দেখুন
Tick icon
বায়োডাটার অনুরোধ গ্রহণ
Tick icon
যোগাযোগের অনুরোধ গ্রহণ
Tick icon
যোগাযোগের অনুরোধ প্রেরণ
Cross icon
বায়োডাটার অনুরোধ প্রেরণ
Cross icon
বায়োডাটা ডাউনলোড
Cross icon
সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন
Cross icon
বিশেষজ্ঞ সেবা (চাহিদা সাপেক্ষে)
Cross icon
সুপারিশ (চাহিদা সাপেক্ষে)
Cross icon

সুবিধাসমূহ

মেয়াদ
১ মাস
শর্ট প্রোফাইল দেখুন
Tick icon
বায়োডাটার অনুরোধ গ্রহণ
Tick icon
যোগাযোগের অনুরোধ গ্রহণ
Tick icon
যোগাযোগের অনুরোধ প্রেরণ
বায়োডাটার অনুরোধ প্রেরণ
ইচ্ছেমতো
বায়োডাটা ডাউনলোড
Tick icon
সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন
Tick icon
বিশেষজ্ঞ সেবা (চাহিদা সাপেক্ষে)
Tick icon
সুপারিশ (চাহিদা সাপেক্ষে)
Cross icon

সুবিধাসমূহ

মেয়াদ
৩ মাস
শর্ট প্রোফাইল দেখুন
Tick icon
বায়োডাটার অনুরোধ গ্রহণ
Tick icon
যোগাযোগের অনুরোধ গ্রহণ
Tick icon
যোগাযোগের অনুরোধ প্রেরণ
২৫
বায়োডাটার অনুরোধ প্রেরণ
ইচ্ছেমতো
বায়োডাটা ডাউনলোড
Tick icon
সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন
Tick icon
বিশেষজ্ঞ সেবা (চাহিদা সাপেক্ষে)
Tick icon
সুপারিশ (চাহিদা সাপেক্ষে)
Tick icon

সুবিধাসমূহ

মেয়াদ
৬ মাস
শর্ট প্রোফাইল দেখুন
Tick icon
বায়োডাটার অনুরোধ গ্রহণ
Tick icon
যোগাযোগের অনুরোধ গ্রহণ
Tick icon
যোগাযোগের অনুরোধ প্রেরণ
৬০
বায়োডাটার অনুরোধ প্রেরণ
ইচ্ছেমতো
বায়োডাটা ডাউনলোড
Tick icon
সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন
Tick icon
বিশেষজ্ঞ সেবা (চাহিদা সাপেক্ষে)
Tick icon
সুপারিশ (চাহিদা সাপেক্ষে)
Tick icon

ব্লগ

বিবাহ বিচ্ছেদ ও ইসলামে বিদ্যমান আইন (পর্ব ২)

blog-image-1
তালাক এবং ইসলাম [1] কোরআন মোতাবেক তালাক দুই ধরণের- তালাক-আল-রাজী এবং তালাক-আল-বিদায়াহ। তালাক-আল-রাজী অর্থ প্রত্যাহার। যে তালাকগুলো প্রত্যাহারযোগ্য সেগুলোই আসলে তালাক-আল-রাজী। তালাক-আল-রাজী আবার দুই ধরণের- তালাক-আল-আহসান এবং তালাক-আল-হাসান। তালাক-আল-আহসান হচ্ছে সর্বোত্তম পন্থা, অখণ্ডনীয় এবং রাসুল (সাঃ) দ্বারা অনুমোদিত। তালাক-আল-আহসান – এ স্বামী এক তুহুরে একবার উচ্চারণ করে বলবে “আমি তোমাকে তালাক দিলাম” এবং ইদ্দতকাল অর্থাৎ ৯০ দিন পার হতে দিবে। ৯০ দিন পর তাদের তালাক কার্যকর হয়ে যাবে যদি এই সময়ের মধ্যে তারা সহবাসে না যায়। যদি সহবাসে যায় বা প্রত্যাহার করে তবে এই তালাক আর কার্যকর থাকবে না।   তালাক-আল-হাসান হল উত্তম পন্থা। এর নিয়ম হচ্ছে স্বামী ৩ তুহুরে উচ্চারণ করে বলবে, “আমি তোমাকে তালাক দিলাম”। এই সময়ে তারা সহবাসে যেতে পারবে না। এটি অপ্রত্যাহারযোগ্য। ৩ উচ্চারণের পূর্বে যদি সহবাসে যায় তবে তা বাতিল হয়ে যাবে। তালাক- আল-বিদায়াহ হচ্ছে যা আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ। যখন তালাকদাতা একসাথে, এক বাক্যে ৩ তালাক দিয়ে দিবে এবং কোন ইদ্দতকাল পর্যন্ত অপেক্ষো করবে না সেটাই তালাক-আল-বিদায়াহ। সূরা আত-তালাক-এ আল্লাহ্‌ এ ব্যাপারে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। হাদিসে এসেছে, মহানবী (সাঃ) এর কাছে এক মহিলা এরকম অভিযোগ নিয়ে আসে যে তার স্বামী তাকে তিন বার তালাক দিয়ে দিয়েছে যদিও সে এখন পবিত্র নয়। মহানবী (সাঃ) তার স্বামীকে ডেকে পাঠালেন এবং তাকে বললেন তার স্ত্রী কে গ্রহণ করতে এবং তুহুরে তাকে তালাক দিতে কারণ এই তালাক গ্রহণযোগ্য নয়। ইলা [1] এটি এখন অতো বেশি প্রচলিত নয়। ইলা হচ্ছে শপথ নেয়া যে সে তার সহধর্মীনীর সাথে ৪ মাস কোন সহবাসে যাবে না। শপথ করার ইদ্দতকাল পার হলেই তাদের মধ্যকার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। জাহির [1] তালাকদাতা যখন বৈবাহিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ এমন কারো সাথে তার অর্ধাঙ্গীনীর তুলনা করে এবং এ কারণে যদি সহবাসে না যায় এবং প্রায়শ্চিত্ত না করে সেটা জাহির। সহবাসে না যাওয়ার ইদ্দতকাল পার হলেই তার মধ্যকার সম্পর্ক শেষ হয়ে যাবে। এই পদ্ধতি এখন আর প্রচলিত নয়। খুলা [2] খুলা হচ্ছে: কোন কিছুর বিনিময়ে স্ত্রী বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। এক্ষেত্রে স্বামী সে বিনিময়টি গ্রহণ করে স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে; এ বিনিময়টি স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে প্রদত্ত মোহরানা হোক কিংবা এর চেয়ে বেশি সম্পদ হোক কিংবা এর চেয়ে কম হোক। এ বিধানের দলিল হচ্ছে, আল্লাহ্‌র বাণী: “আর তাদেরকে যা কিছু দিয়েছো (বিদায় করার সময়) তা থেকে কিছু ফিরিয়ে নেয়া তোমাদের জন্য বৈধ নয়। তবে এটা স্বতন্ত্র, স্বামী-স্ত্রী যদি আল্লাহ নির্ধারিত সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে না বলে আশংকা করে, তাহলে এমতাবস্থায় যদি তোমরা আশংকা করো, তারা উভয়ে আল্লাহ্‌ নির্ধারিত সীমার মধ্যে অবস্থান করতে পারবে না, তাহলে স্ত্রীর কিছু বিনিময় দিয়ে তার স্বামী থেকে বিচ্ছেদ লাভ করায় উভয়ের কোন গুনাহ নেই।”[সূরা বাক্বারা, আয়াত: ২২৯] সুন্নাহ্‌ থেকে এর দলিল হচ্ছে, সাবেত বিন ক্বাইস বিন শাম্‌মাস এর স্ত্রী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে বললেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌! আমি সাবেত বিন ক্বাইসের উপর চারিত্রিক বা দ্বীনদারির কোন দোষ দিব না। কিন্তু, আমি মুসলিম হয়ে কুফরিতে লিপ্ত হতে অপছন্দ করি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তুমি কি তার বাগানটি ফিরিয়ে দিবে? সাবেত মোহরানা হিসেবে তাকে বাগান দিয়েছিল। সে বলল: জ্বি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: বাগানটি গ্রহণ করে তাকে বিচ্ছিন্ন করে দাও”[সহিহ বুখারী (৫২৭৩)] এই ঘটনা থেকে আলেমগণ গ্রহণ করেন যে, কোন নারী যদি তার স্বামীর সাথে অবস্থান করতে না পারে সেক্ষেত্রে বিচারক স্বামীকে বলবেন তাকে তালাক দিয়ে দিতে; বরং স্বামীকে তালাক দেয়ার নির্দেশ দিবেন। এর পদ্ধতি হচ্ছে- স্বামী বিনিময় গ্রহণ করবেন কিংবা তারা দুইজন এ বিষয়ে একমত হবেন; এরপর স্বামী তার স্ত্রীকে বলবেন: আমি তোমাকে বিচ্ছিন্ন করে দিলাম কিংবা আমি তোমাকে খুলা তালাক দিলাম, কিংবা এ জাতীয় অন্য কোন শব্দ। মুবারাত [3] [4] মুবারাত হচ্ছে সমঝোতার মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ করা। যখন দুই পক্ষের কেউই এই বৈবাহিক সম্পর্কে খুশি না তখন তারা এই পদ্ধতিতে তাদের বিবাহ নিষ্পত্তি করতে পারে। এই ধরণের ডিভোর্স স্বামী বা স্ত্রী যে কেউই সূচনা করে থাকে। স্বামী ও স্ত্রী সম্মিলিত-ভাবে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার উপর নির্ভর করে স্ত্রী তার স্বামীকে কোন বিনিময় দিবে নাকি দিবে না। হাদিসে এ ব্যাপারে এসেছে, দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রাঃ) এর কাছে এক দম্পতি আসে যে তারা আর একসাথে থাকতে পারছেন না। উমর (রাঃ) স্ত্রীকে এক নোংরা ঘরে তিন দিন এবং তিন রাত বন্ধ করে রাখলেন। তিন দিন পর তাকে জিজ্ঞাসা করলেন এই কয়দিন তার কেমন লেগেছে। উত্তরে স্ত্রী বললেন, এই তিন দিন ছিল আল্লাহ্‌র রহমতে বিবাহের পর আমার জীবনের সবচেয়ে শান্তির রাত। এই কথা শোনার পর হযরত উমর (রাঃ) বুঝতে পেরেছেন যে তাদের মধ্যে বিদ্রোহের মাত্রা অনেক এবং তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পন্ন করেন। আমরা এই ব্লগটি বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও আইনজীবীদের ব্লগের সাপেক্ষে লিখেছি, এজন্যে ভুল ক্রটি থাকতে পারে। এছাড়াও যেকোনো আইনের প্রয়োগ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। সুতরাং আপনার ব্যক্তিগত জীবনের নির্দিষ্ট কোন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে অবশ্যই আলেম অথবা আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন। যদি আমাদের এই ব্লগটি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তবে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন এবং শেয়ার করবেন। Reference: A video about divorce and related laws in Bangladesh by Lawyer Azizun Nahar Munmun https://www.youtube.com/watch?v=Wkzg1WpNCWw Shaykh Muhammad Saalih al-Munajjid, Khula and how its done, Retrieved from: https://islamqa.info/bn/26247 Arjun Gupta, Divorce by Mutual Consent in Muslim Law- Mubarat, retrieved from-  https://arjungupta1993.wordpress.com/2015/03/22/divorce-by-mutual-consent-in-muslim-law-mubarat/ Muslim Women Network (MWNUK), Muslim Marriage and Divorce, Retrieved from: http://www.mwnhelpline.co.uk/issuesstep2.php?down=24  

বিবাহ বিচ্ছেদ ও বাংলাদেশে বিদ্যমান আইন (পর্ব ১)

blog-image-2
বিবাহ বিচ্ছেদ বলতে বিবাহ চুক্তির সমাপ্তি বুঝায়। ডিভোর্স বা বিবাহ বিচ্ছেদ হচ্ছে দম্পতির সর্বশেষ পন্থা যখন আর কোন মতেই একসাথে থাকা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। এ সম্পর্কে আল্লাহ্‌র নবী (সাঃ) বলেন, “ইসলামের নিকৃষ্ট হালাল বস্তু হল তালাক”- (আল- হাদিস)। ইসলাম কখনই সম্পর্ক ছিন্ন করা সমর্থন করে না। মহান আল্লাহ্‌ এজন্যে তালাককে সর্বশেষ উপায় হিসাবে উল্লেখ করেছেন এবং সময় ও সুযোগ দিয়েছেন এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার। বাংলাদেশে বিয়ে এবং বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে কতগুলো আইন আছে এর মধ্যে অন্যতম হল- বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯৭৪ এবং মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১। এই সবগুলো আইন-ই ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক গঠিত এবং পরিচালিত। বিবাহ বিচ্ছেদ মুলতঃ দুই ভাবে হয়ে থাকে- ১) কোন পক্ষের মৃত্যু হলে ২) যে কোনো এক পক্ষের পদক্ষেপের মাধ্যমে। পদক্ষেপ আবার ৩ ভাবে হতে পারে- ক) স্বামী খ) স্ত্রী গ) পারস্পরিক সমঝোতা। এর বিস্তারিত জানার আগে আমাদের কিছু বিষয় সম্পর্কে জানা প্রয়োজন: ইদ্দতকাল: ইদ্দত অর্থ হচ্ছে গণনা অথবা অপেক্ষা করা। তালাকের পর অথবা স্বামীর মৃত্যুর পর পুনরায় বিয়ের প্রস্তাব আদান প্রদানের জন্য মহিলাদের যতদিন অপেক্ষা করা লাগবে সেটাই আসলে ইদ্দতকাল। আল্লাহ্‌ তায়ালা ইদ্দতকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছেন যাতে স্ত্রী বুঝতে পারে যে সে গর্ভাবস্থায় আছে কিনা। ইদ্দতকাল অবস্থা অনুযায়ী বিভিন্ন হয়ে থাকে। কোরআন মোতাবেক স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রীকে ৪ মাস ১০ দিন ইদ্দতকাল পালন করতে হব। ডিভোর্সের ক্ষেত্রে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ অনুযায়ী স্বামীর প্রথম তালাক ঘোষণার পর ৯০ দিন এবং কোরআন মোতাবেক ৩ টি পিরিয়ডকালীন (ঋতুস্রাব) সময় হচ্ছে ইদ্দতকাল যা অতিক্রম হওয়ার পর ডিভোর্স কার্যকর হবে। এ সম্পর্কে আল্লাহ তালাহ কোরআনে বলেছেন, হে নবী, তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে তালাক দিতে চাও, তখন তাদেরকে তালাক দিয়ো ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে এবং ইদ্দত গণনা করো। তোমরা তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করো। তাদেরকে তাদের গৃহ থেকে বহিস্কার করো না এবং তারাও যেন বের না হয় যদি না তারা কোন সুস্পষ্ট নির্লজ্জ কাজে লিপ্ত হয়। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন করে, সে নিজের-ই অনিষ্ট করে। সে জানে না, হয়তো আল্লাহ এই তালাকের পর কোন নতুন উপায় করে দেবেন। (সূরা আত-তালাক: ১) তুহুর: মেয়েদের পিরিয়ডের পরবর্তী পবিত্রকালীন সময়কে তুহুর বলে। এর সময়সীমা প্রথম পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর থেকে দ্বিতীয় পিরিয়ড শুরু হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত থাকে। আমরা এখানে আলোচনা করবো ৩টি পদক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশে বিদ্যমান আইন এবং ইসলামে এই সম্পর্কিত বাধা-নিষেধ। বাংলাদেশে ডিভোর্সের বিদ্যমান আইন কারো স্ত্রী যদি মৃত্যুবরণ করে তবে সে পুনরায় বিয়ে করতে পারবে, কোন সময় পর্যন্ত তার অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। যদি কারো স্বামী মারা যায় তবে স্ত্রীকে ইদ্দতকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগবে। আইন অনুযায়ী এই ইদ্দতকাল হচ্ছে ৪ মাস ১০ দিন। সে আসলে গর্ভবতী কিনা তা নিরূপণ করার জন্য এই সময়টুকু প্রয়োজন। গর্ভবতী হলে সন্তান জন্মগ্রহণের পর দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবে। যদি স্ত্রী এবং স্বামীর দাম্পত্য জীবন পূর্ণতা পাবার আগেই স্বামী মারা যায় তবে বাংলাদেশ আইন অনুযায়ী এই ইদ্দতকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগে না। তালাকদাতার অবশ্যই প্রাপ্ত বয়স্ক এবং সুস্থ মস্তিষ্কের হতে হবে। নাবালক ও সুস্থ মস্তিষ্কের নয় এমন কেউ অথবা তার পক্ষে তার পরিবারের কেউ ডিভোর্স দিতে পারবে না। এটি হচ্ছে ডিভোর্সের পূর্বশর্ত।    বাংলাদেশে বিদ্যমান মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ ১৯৬১ অনুযায়ী স্বামী ও স্ত্রী যে কেউই ডিভোর্স দিতে পারে। যেকোন পদ্ধতিতেই ডিভোর্স দিলে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ৩ টি ধাপে তারা তাদের বিবাহের নিষ্পত্তি করতে হবে- ১। লিখিত নোটিশ পাঠাতে হবে ২। সালিশি পরিষদে অংশগ্রহন করতে হবে ৩। ৯০ দিন অতিক্রম হওয়ার পর রেজিস্ট্রারের নিকট হতে ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট নিতে হবে আমাদের দেশে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক তবে ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক নয়। মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ ১৯৬১ অনুযায়ী লিখিত নোটিশ পাঠাতে হবে। এই নোটিশ আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক এবং না পাঠালে আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর  অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী নোটিশ না পাঠালে তালাকদাতার ১০,০০০ টাকা জরিমানা অথবা ১ বছরের জেল অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। নোটিশ আপনি নিকাহ রেজিস্টার/কাজী, নোটারী অথবা আপনার উকিলের মাধ্যমে পাঠাতে পারেন। এলাকার চেয়ারম্যান অথবা কাউন্সিলর নোটিশ পাবার ৩০ দিনের মধ্যে একটি সালিশি পরিষদ গঠন করবে। আইন অনুযায়ী দুই পক্ষের এই সালিশি পরিষদে একসাথে বসতে হবে। তবে মানুষ খুব কমই এই সালিশি পরিষদে অংশগ্রহণ করে।  এই পরিষদে বসে তারা বিভিন্ন আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয় তারা কেন একসাথে থাকবে না এবং আসলেই কি তাদের একসাথে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। চেয়ারম্যান/ কাউন্সিলর যদি দেখে যে আসলেই তাদের আর একসাথে থাকা সম্ভব না সেক্ষেত্রে উনি সিদ্ধান্ত দিবেন যে ৯০ দিন পর তাদের ডিভোর্স কার্যকর হবে। যদি তাদের দুই জনের একজনও সালিশি পরিষদে না আসে তবে ধরে নেয়া হয় যে দুই জনই ডিভোর্সের পক্ষে। তখন নোটিশ পাঠানোর ৯০ দিন পর তাদের ডিভোর্স কার্যকর হয়ে যায়। এই ৯০ দিন অপেক্ষাকে ইদ্দতকাল বলে।স্ত্রী যদি গর্ভাবস্থায় থাকে তবে যেটির সময় বেশি তার পরে তালাক কার্যকর হবে, অর্থাৎ যদি সন্তান ১০০ দিন পরে হয় তবে ১০০ দিন পর তালাক কার্যকর হবে কিন্তু যদি সন্তান ৮০ দিন পরে হয় তবে ৯০ দিন (নির্ধারিত সময়) পরেই তালাক কার্যকর হবে।  ডিভোর্স ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে তালাকদাতা ডিভোর্স প্রত্যাহার করতে পারে। ৯০ দিন পর যদি তাদের মনে হয় ডিভোর্স নেয়াটা ঠিক হয়নি, একসাথে থাকতে চায় সেক্ষেত্রে তাদের পুনরায় বিয়ে করতে হবে। ডিভোর্স-এর আগে স্বামীকে অবশ্যই পুরো দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে যদি সে বিবাহের সময় পুরো দেনমোহর পরিষদ করে না থাকে, এটা স্ত্রীর অধিকার। ডিভোর্স কার্যকর হওয়ার পর তাদের রেজিস্ট্রারের নিকট ডিভোর্স সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে হবে এবং সেটি সংগ্রহ করতে হবে। স্বামী তার স্ত্রীকে কোন কারণ দর্শানো ছাড়াই ডিভোর্স দিতে পারে। অনেকের আবার প্রশ্ন থাকতে পারে স্বামী যদি রাগের মাথায় তালাক দিলাম বলে ফেলে তখন কি হবে। আইন ও ইসলাম অনুযায়ী এই ডিভোর্স গ্রহণযোগ্য হবে না। এইদিকে স্ত্রী কয়েকটি নির্ধারিত কারণে স্বামীকে ডিভোর্স দিতে পারে যা ডিভোর্স আইন, ১৮৬৯ এর ধারা ২ অনুচ্ছেদ দুই এ উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া যদি স্বামী তার স্ত্রীকে বিয়ের কাবিনামায় অধিকার দিয়ে থাকে যে স্ত্রী তাকে তালাক দিতে পারবে তবেই আসলে স্ত্রী তার স্বামীকে নির্ধারিত কারণ ব্যাতিত ডিভোর্স দিতে পারবে। এই পদ্ধতিকে তালাক-এ-তৌহিদ বলে। আমরা এই ব্লগটি বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও আইনজীবীদের ব্লগের সাপেক্ষে লিখেছি, এজন্যে ভুল ক্রটি থাকতে পারে। এছাড়াও যেকোনো আইনের প্রয়োগ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। সুতরাং আপনার ব্যক্তিগত জীবনের নির্দিষ্ট কোন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে অবশ্যই আলেম অথবা আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন। পরবর্তী পর্বে আমরা আলোচনা করবো বিবাহ বিচ্ছেদ এবং ইসলামে বিদ্যমান নিয়ম। যদি আমাদের এই ব্লগটি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তবে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন এবং শেয়ার করবেন।