বিয়ে আপনার, দায়িত্ব আমাদের

Landing page down arrow
WhatsApp Logo

কিভাবে আপনি জীবনসঙ্গী খুঁজবেন?

  • tick markরেজিস্টার করুন নিজের বা পরিচিতজনের জন্য
  • tick markআপনার সকল তথ্য দিন
  • tick markসবগুলো ঘর ভালোভাবে পূরণ করুন
  • tick markকার্ড বা বিকাশে পে করুন
  • tick markপাত্র/পাত্রী খুঁজুন
  • tick markসম্পূর্ণ বায়োডাটা দেখার অনুরোধ করুন
  • tick markযোগাযোগের অনুরোধ করুন
  • tick markমেসেজ পাঠান
  • tick markদেখা করুন এবং বিয়ের সিদ্ধান্ত নিন

আমাদের সেবাসমূহ

Our-Services-icon-1-logo

সপ্তাহে ৭ দিন গ্রাহক সেবা

আমরা সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৬ টা পর্যন্ত গ্রাহক সেবা দিয়ে থাকি। আমাদের সাথে আপনারা ইমেইল, ফোন অথবা ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা চেষ্টা করি সকল সমস্যার সহজ এবং দ্রুত সমাধান করতে।

Our-Services-icon-2-logo

বিশেষ পরামর্শ

আমরা গ্রাহকদের আরও সুন্দরভাবে কিভাবে প্রোফাইলটি উপস্থাপন করতে পারে সে ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে থাকি। প্রিমিয়াম গ্রাহকদের চাহিদা সাপেক্ষে তাদের পছন্দের পাত্র বা পাত্রী খুঁজতে সাহায্য করে থাকি।

Our-Services-icon-3-logo

ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে সহযোগীতা

আমাদের ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে গ্রাহক আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন। যেকোনো ধরণের সমস্যা অথবা যেকোনো ধরনের প্রশ্নের উত্তর আমরা দিয়ে থাকি। এছাড়াও আমরা ফেসবুক পেইজে কিছু পাত্র বা পাত্রীর নিজের সম্পর্কে কিছু কথা পোস্ট করে থাকি।

Our-Services-icon-4-logo

গোপনীয়তা ও বিশ্বস্ততার নিশ্চয়তা

আপনার অনুমতি ছাড়া ছবি, আসল নাম ও পূর্ণ প্রোফাইল কেউ দেখতে পারবে না। দুই ধাপে অনুমতি দেয়ার পরে গ্রাহক আপনার যোগাযোগের তথ্য পাবে। আমরা প্রত্যেকের মোবাইল নম্বর ভেরিফাই করি। আপনার অভিযোগ বা সন্দেহজনক তথ্য পেলে নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ নেই।

আপনার প্ল্যান নির্বাচন করুন

সুবিধাসমূহ

মেয়াদ
প্রযোজ্য নয়
শর্ট প্রোফাইল দেখুন
Tick icon
বায়োডাটার অনুরোধ গ্রহণ
Tick icon
যোগাযোগের অনুরোধ গ্রহণ
Tick icon
যোগাযোগের অনুরোধ প্রেরণ
Cross icon
বায়োডাটার অনুরোধ প্রেরণ
Cross icon
বায়োডাটা ডাউনলোড
Cross icon
সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন
Cross icon
বিশেষজ্ঞ সেবা (চাহিদা সাপেক্ষে)
Cross icon
সুপারিশ (চাহিদা সাপেক্ষে)
Tick icon

সুবিধাসমূহ

মেয়াদ
১ মাস
শর্ট প্রোফাইল দেখুন
Tick icon
বায়োডাটার অনুরোধ গ্রহণ
Tick icon
যোগাযোগের অনুরোধ গ্রহণ
Tick icon
যোগাযোগের অনুরোধ প্রেরণ
২০
বায়োডাটার অনুরোধ প্রেরণ
ইচ্ছেমতো
বায়োডাটা ডাউনলোড
Tick icon
সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন
Tick icon
বিশেষজ্ঞ সেবা (চাহিদা সাপেক্ষে)
Tick icon
সুপারিশ (চাহিদা সাপেক্ষে)
Tick icon

সুবিধাসমূহ

মেয়াদ
৩ মাস
শর্ট প্রোফাইল দেখুন
Tick icon
বায়োডাটার অনুরোধ গ্রহণ
Tick icon
যোগাযোগের অনুরোধ গ্রহণ
Tick icon
যোগাযোগের অনুরোধ প্রেরণ
৫০
বায়োডাটার অনুরোধ প্রেরণ
ইচ্ছেমতো
বায়োডাটা ডাউনলোড
Tick icon
সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন
Tick icon
বিশেষজ্ঞ সেবা (চাহিদা সাপেক্ষে)
Tick icon
সুপারিশ (চাহিদা সাপেক্ষে)
Tick icon

সুবিধাসমূহ

মেয়াদ
৬ মাস
শর্ট প্রোফাইল দেখুন
Tick icon
বায়োডাটার অনুরোধ গ্রহণ
Tick icon
যোগাযোগের অনুরোধ গ্রহণ
Tick icon
যোগাযোগের অনুরোধ প্রেরণ
১০০
বায়োডাটার অনুরোধ প্রেরণ
ইচ্ছেমতো
বায়োডাটা ডাউনলোড
Tick icon
সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন
Tick icon
বিশেষজ্ঞ সেবা (চাহিদা সাপেক্ষে)
Tick icon
সুপারিশ (চাহিদা সাপেক্ষে)
Tick icon
* অফার ১৫ জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত চলবে

ব্লগ

বিবাহ বিচ্ছেদ: কারণ, প্রভাব এবং পুনরুদ্ধারের পথ

blog-image-1
বর্তমান সমাজে সবচাইতে ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে তালাক।  খুব সহজে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যাচ্ছে।  স্বামী-স্ত্রী সামান্য ঝগড়াঝাঁটি, মনোমালিন্য এর কারণে একে অপরকে তালাক দিয়ে দিচ্ছে। তালাক দেওয়ার সময় অনেকে মনে করে তার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।  কিন্তু পরে অধিকাংশরাই আফসোস করে যে তাঁর সিদ্ধান্ত ভুল ছিল । তখন তাদের এই আফসোস কোন কাজে আসে না। একসময় হতাশা তাকে ঘিরে ধরে। অনেকে  আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।  আর এই তালাক আগে স্বামী দ্বারা বেশি সংঘটিত হতো।  কিন্তু বর্তমানে স্ত্রী কর্তৃক তালাক প্রচুর  হচ্ছে।  যেহেতু সরকারি আইন মোতাবেক মেয়েরাও  তালাক দিতে পারবে।  এর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এই তালাক কেন এত বেশি হচ্ছে তা নিয়ে সবাই চিন্তিত। আমাদের নিজেদের আশেপাশে দেখা বিভিন্ন তালাকপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের থেকে কিছু আলোচনা এখানে করবো বিশেষ করে স্ত্রী বা মেয়েদের দ্বারা তালাক হওয়ার কারণ নিয়েঃ  ১। মেয়েরা অল্পতেই হতাশ হয়ে যায়ঃ যেসব মেয়েরা তালাক দেয় তাদের ভিতরে আসলে অল্পতেই হতাশা কাজ করে।  তারা যখন তালাক দেয় তখন এর পরিণতি কি হবে চিন্তা করতে পারে না।  স্বামীর সামান্য তো অবহেলা বা কোন বিষয়ে মনোমালিন্য বা কোন বিষয় দ্বিমতে তারা হতাশ হয়ে যায়। মেয়েরা  ভাবে তাদের স্বামী মনে হয় সারা জীবনই এরকম থাকবে।  কোন পরিবর্তন হবে না।  সে কখনো ভালো হবে না।  সে কখনো আমাকে সম্মান করবে না।  সে কখনো আমার মতামতকে গুরুত্ব দিবে না ইত্যাদি।  যার ফলে তারা অতি দ্রুত হতাশ হয়ে যায় এবং তালাকের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়।  কিন্তু যদি একটু সবর করতো তাহলেই দেখা যেত তার স্বামীর স্বভাবে পরিবর্তন এসে গেছে।  আর এই সুন্দর সম্পর্কটাও টিকে যেত। ২। শয়তানের ওছওয়াছাঃ মানুষদেরকে ক্ষতি করা,  বিভ্রান্ত করা,  অশান্তির সৃষ্টি করা শয়তানের কাজ।   শয়তান সব সময় আদম সন্তানের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি করতে থাকে।  সবচেয়ে বড় ক্ষতি করে তালাকের দ্বারা।  তালাকের মাধ্যমে সে আসলে মানুষদেরকে হতাশার মধ্যে নিমজ্জিত  করতে চায়।  হতাশার দ্বারা একসময় এসব মেয়েদেরকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পরামর্শ দেয়।  যে এই শয়তানের  পরামর্শ বুঝতে পারে না সে এই ধোঁকায় পড়ে নিজের জীবন নষ্ট করে।  অন্যদিকে যদি তার সন্তান থাকে তাদের বিরাট ক্ষতি সাধিত হয়।  তাদের সন্তানরা আর সুষ্ঠুভাবে বেরে উঠতে পারে না।  এভাবে পরিবারে ক্ষতি  সাধিত হয়।  পরিবার থেকে সমাজ,  সমাজ থেকে রাষ্ট্র সব জায়গায় এই ক্ষতির প্রভাব পড়ে।  সুন্দর একটি পরিবেশ ছাড়া বা পরিবার ছাড়া ভাল মানুষ গড়ে তোলা সম্ভব হয়না। যে পরিবারে বাবা মায়ের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকে না সেই পরিবারের সন্তানেরা সহজে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে না। তারা সমাজের বোঝা হয়ে যায়  এবং তাদের দ্বারা সমাজের বিভিন্ন খারাপ কাজ সংঘটিত হয়।  এভাবে তালাকের দ্বারা শয়তান মানুষের বিরাট ক্ষতি সাধন করে।   ৩। সামনে আরো ভাল কিছু আছেঃ  তালাক দেওয়ার পর মেয়েরা মনে করে সামনে তাদের আরো ভালো কিছু আছে।  অর্থাৎ ভালো স্বামী পাবে ভালো শাশুড়ি ভালো পরিবার সম্পদ ভালো ব্যবহার ইত্যাদি।  আসলে কি অন্য জায়গা বিয়ে হলে ভালো স্বামী পাবে। না অন্য জায়গায় বিয়ে হলেই ভালো স্বামী পাবে কোন নিশ্চয়তা নেই।  এমন হতে পারে সেই স্বামী আগে স্বামীর চাইতে আরো বেশি খারাপ হবে।  শাশুড়ি, পরিবারের অন্যান্য  সদস্যরা আরো বেশি খারাপ হবে।  তাদের ব্যবহার আরো খারাপ হবে ইত্যাদি।  এছাড়া আরেকটি জিনিস নতুন পরিবার থেকে আসতে পারে সেটা হলো অবহেলা এবং আগে বিয়ে হয়েছিল এই কথা বলে মানসিকভাবে ছোট করে রাখা ইত্যাদি।  ৪। দুনিয়াতে কেউ পারফেক্ট নয়ঃ  আমরা সবকিছু পারফেক্ট পেতে চাই। কিন্তু দুনিয়াতে আসলে কেউ পারফেক্ট নন।  কোন না কোন সমস্যা সবারই আছে।  কেউ হয়তো দেখতে সুন্দর  কিন্তু সে পর নারীতে সহজেই আকৃষ্ট হতে পারে। যাকে পরকীয়া বলে। এটা কিন্তু কোন মেয়েই মেনে নেবেনা।  আবার স্বামীর ইনকাম কম, দেখতে তেমন সুন্দর নয় কিন্তু সে স্ত্রীকে ভালোবাসে।  এখন যদি সে আরো বেশি ইনকাম আশা করে বা আরো সুন্দর স্বামী আশা করে তাহলে সমস্যা শুরু হবে। কেউ দুনিয়াতে সব দিক দিয়ে ফিট নয়। আপনি নিজেও না, কোণ না কোণ দুর্বলতা আপনার আছে। তাই অন্যের দুর্বলতাকে বড় করে দেখা যাবেনা।   ৫। অন্যের সাথে তুলনাঃ নিজের স্বামীকে অন্যের সাথে তুলনা করা। এটা এক বিরাট সমস্যা। অন্যের স্বামীর কি আছে কি নেই এগুলোর সাথে নিজের স্বামীর তুলনা করে তখন আরেক সমস্যার সৃষ্টি হয়।  অন্যের স্বামীর অনেক কিছুই থাকতে পারে যা আপনার স্বামী নেই।  এখন যদি সে সব আপনি নিজের স্বামীর মধ্যে পাওয়ার আশা করেন তাহলে সমস্যা হবে। নিজের স্বামীকে যেভাবে দেখতে চান সেভাবে তাকে গড়ে তোলার চেষ্টা করুন। কিছুটা পরিবর্তন অবশ্যই সম্ভব, তবে একেবারে সবকিছু পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাঁর কিছু বিষয়ে ছাড় দিতেই হবে। ছাড় দেওয়ার মানসিকতা না থাকলে অশান্তি হবে। যার পরিনতিতে ডিভোর্স হতে পারে।   ৬। স্বাবলম্বী হওয়াঃ মেয়েরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার কারনে স্বামীকে অতটা প্রাধান্য দেয়না। তাঁর আর্থিক সব চাহিদা নিজেই পুরণ করতে পারে। ফলে স্বামীর প্রতি সম্মান, স্বামীর কথার গুরুত্ব তাঁর কাছে একটু হলেও কমে যায়। স্বামী জব করে ঘরে ফিরে স্ত্রীর কাছে সুন্দর ব্যবহার, ক্লান্তি দূর করার সাহায্য আশা করে কিন্তু স্ত্রীও চাকুরিজীবি বা স্বাবলম্বী সে নিজেও কারো কাছে এরকম কিছু আশা করে। স্ত্রী কিছুটা ক্লান্ত থাকায় তাঁর দ্বারা এই স্বামীকে অতটা সাহায্য করা সম্ভব হয়না। এতেও কিছুটা মনোমালিন্য সৃষ্টি হতে পারে।    ৭। ইসলাম না বুঝাঃ ইসলামের মুল বক্তব্য হল, দুনিয়া ইবাদতের জায়গা। এখানে নিজের আশা পুরণ বা ভোগ বিলাসের জায়গা নয়। নামাজ, পর্দা যেমন ইবাদত তেমনি অল্পে তুস্টি থাকা, অপছন্দনীয় বিষয়ের উপর সবর করা, দুনিয়াকে পরিক্ষার জায়গা মনে করা ইত্যাদিও ইবাদত- এই কথা বুঝতে না পারাই হল ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়া। দুনিয়াকে প্রাধান্য দেওয়া অর্থ্যাৎ দুনিয়ার সামান্য লাভ বা লসে হতাশ হয়ে যাওয়া। এসব কারণ থেকেই বেশি ডিভোর্স হচ্ছে।  এছাড়া বহু কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ হতে পারে, তবে এটা কোন ভাল সমাধান নয়। দুনিয়াতে সমস্যা সব সময়ই থাকবে, এসব সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করে এগিয়ে যাওয়ার নাম জীবন। আর দুনিয়ার জীবন একদিন শেষ হবেই মরণের মাধ্যমে। আর মরণের পরে দুনিয়ার কোন সমস্যা আপনাকে ধরতে পারবেনা। ঈমানের সাথে মরণ হলে দুনিয়ার সমস্যায় সবর করার কারণে আপনি মহান আল্লাহর কাছে সম্মানিত হবেন। অর্থাৎ দুনিয়ার সমস্যাতে সবর করাই আপনার জন্য পুরস্কার পাওয়ার কারণ হয়ে যাবে।   

বিয়ের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে যে ৯টি বিষয় জানা অত্যন্ত জরুরী

blog-image-2
‘বিয়ে’ শব্দটি পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সকল প্রাপ্ত বয়স্ক নর-নারীর জীবনে বহু আকাঙ্ক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সকলের জীবনেই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, যখন সে একজন জীবনসঙ্গীর সাথে নতুন জীবনের পথে পা বাড়ায়। তবে বিয়ের পূর্বে রয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আর তা হচ্ছে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া ও কনে দেখার পর্ব। ইসলাম একটি পূর্ণ জীবনবিধান, তাই বিয়ের পূর্বে বিয়ের প্রস্তাবনা ও কনে দেওয়ার বিষয়েও রয়েছে ইসলামের সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা। তাই সালাত-সিয়াম সহ জীবনের অন্যান্য ব্যাপারের মত বিয়ের প্রস্তাব ও কনে দেখার ক্ষেত্রেও শরীয়তের নির্দেশনা মেনে চলা এক ধরনের আমল ও ইবাদত। কিন্তু ইসলামের সঠিক দিক নির্দেশনা না জানায় আমরা প্রায়ই বিয়ের প্রস্তাব ও কনে দেখার ক্ষেত্রে ইসলাম পরিপন্থী কাজ করে ফেলি। বিয়ের আগে যেহেতু আসে বিয়ের প্রস্তাব ও কনে দেখার মত ব্যাপার, তাই বিয়ের আগেই জেনে নেওয়া দরকার- ইসলাম আমাদের বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া ও কনে দেখার ক্ষেত্রে কী নির্দেশনা দিচ্ছে। ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ে বলতে কী বোঝায় বিয়ে হচ্ছে একটি সামাজিক বন্ধন বা বৈধ চুক্তি যার মাধ্যমে দু'জন মানুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত হয় এবং আদর্শ পরিবার ও নিরাপদ সমাজ গড়ে ওঠে। বিয়ে শুধু নারী-পুরুষের মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্ক নয়, সুস্থ্য ও স্বাভাবিক সমাজ গঠনের মূল হাতিয়ার হচ্ছে বিয়ে। মহানবী (সাঃ) বলেন, “হে যুব সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে সে যেন বিয়ে করে। কেননা, তা চক্ষুকে অবনত করে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাযত করে। আর যে এর সামর্থ্য রাখে না, তার কর্তব্য রোযা রাখা। কেননা তা যৌন উত্তেজনার প্রশমন ঘটায়।” (বুখারী : ৫০৬৬; মুসলিম : ৩৪৬৪) এ জন্যই আলিমগণ বলেছেন, সাগ্রহে বিবাহ করা নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম। বিয়ের প্রস্তাব ও তার নিয়ম বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া ও পাত্র-পাত্রীর মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কিছু ওয়াজিব ও মুস্তাহাব কাজ রয়েছে, যা উভয় পক্ষেরই বিবেচনায় নিতে হবে। যখন কেউ কোন নারীকে বিয়ে করতে আগ্রহী হয়, তখন তার উচিত ওই মেয়ের অভিভাবকের মাধ্যমে তাকে পাওয়ার চেষ্টা করা। ১.শরীয়তে বিয়ের প্রস্তাব বলতে কী বোঝায় বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দেশনা হচ্ছে, এমন ব্যাক্তির পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া, যার প্রস্তাব গৃহীত হতে পারে। এটি বিবাহ পর্ব সূচনাকারীদের প্রাথমিক চুক্তি। এটি বিবাহের ওয়াদা এবং বিবাহের প্রথম পদক্ষেপ। ২.ইস্তিখারা করা সকল নর-নারীর জীবনে বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। তাই যখন তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিবেন, তাদের জন্য কর্তব্য হলো ইস্তিখারা তথা আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করা। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সাঃ) বলেন, “হে আল্লাহ, আমি আপনার ইলমের মাধ্যমে আপনার নিকট কল্যাণ কামনা করছি। আপনার কুদরতের মাধ্যমে আপনার নিকট শক্তি কামনা করছি এবং আপনার মহা অনুগ্রহ কামনা করছি। কেননা আপনি শক্তিধর, আমি শক্তিহীন, আপনি জ্ঞানবান, আমি জ্ঞানহীন এবং আপনি অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞানী। হে আল্লাহ, এই কাজটি (এখানে উদ্দিষ্ট কাজ বা বিষয়টি উল্লেখ করবেন) আপনার জ্ঞান মোতাবেক যদি আমার দীন, আমার জীবিকা এবং আমার পরিণতির ক্ষেত্রে অথবা ইহলোক ও পরলোকে কল্যাণকর হয়, তবে তাতে আমাকে সামর্থ্য দিন। পক্ষান্তরে এই কাজটি আপনার জ্ঞান মোতাবেক যদি আমার দীন, জীবিকা ও পরিণতির দিক দিয়ে অথবা ইহকাল ও পরকালে ক্ষতিকর হয়, তবে আপনি তা আমার থেকে দূরে সরিয়ে রাখুন এবং আমাকেও তা থেকে দূরে সরিয়ে রাখুন এবং কল্যাণ যেখানেই থাকুক, আমার জন্য তা নির্ধারিত করে দিন। অতঃপর তাতেই আমাকে পরিতুষ্ট রাখুন।”  (বুখারী : ১১৬৬; আবূ দাউদ : ১৫৪০) ৩.নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করা বিয়েতে সম্মতি দেওয়ার পূর্বে বিয়ে ও সংশ্লিষ্ট ব্যাপারে অভিজ্ঞ কারও সাথে যোগাযোগ ও পরামর্শ করা উচিত, যিনি পাত্র বা পাত্রীর পরিবার সম্পর্কে ভালভাবে জানেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর সাহাবীদের সঙ্গে অধিক পরিমাণে পরামর্শ করতেন। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে অন্য কাউকে আপন সাথীদের সঙ্গে বেশি পরামর্শ করতে দেখি নি।”(তিরমিযী : ১৭১৪; বাইহাকী : ১৯২৮০)।  হাসান বসরী (রঃ) বলেন, “মানুষের মধ্যে তিন ধরনের ব্যক্তিত্ব রয়েছেঃ কিছু ব্যক্তি পূর্ণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, কিছু ব্যক্তি অর্ধেক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং কিছু ব্যক্তি একেবারে ব্যক্তিত্বহীন। পূর্ণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তি সেই, যিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং পরামর্শও করেন। অর্ধেক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন সেই, যিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তবে পরামর্শ করেন না। আর ব্যক্তিত্বহীন ব্যক্তি তিনিই, যিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না আবার কারো সঙ্গে পরামর্শও করেন না।” (শিহাবুদ্দীন আবশীহী, আল-মুসতাতরিফ ফী কুল্লি মুসতাযরিফ : ১/১৬৬) তবে যার সাথে পরামর্শ করবেন, এ ক্ষেত্রে তার কর্তব্য হচ্ছে বিশ্বস্ততা রক্ষা করা। তিনি যেমনি কারও কোন দোষ লুকাবেন না, তেমনি আসলে নেই, এমন কোনো দোষের কথাও বানিয়ে বলবেন না। আর অবশ্যই এ পরামর্শের কথা কাউকে বলবেন না। ৪.পাত্রী দেখা কেউ যখন কোন একজন নারীকে বিয়ে করতে চায়, তখন তার ওই নারীর সাথে দেখা করার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু সে সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা ইসলামে রয়েছে।  মুহাম্মাদ (সাঃ) এর নির্দেশনা থেকে এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণ পাওয়া যায়। মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেন, “তোমাদের কেউ যখন নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়, অতপর তার পক্ষে যদি ওই নারীর এতটুকু সৌন্দর্য দেখা সম্ভব হয়, যা তাকে মুগ্ধ করে এবং মেয়েটিকে (বিয়ে করতে) উদ্বুদ্ধ করে, সে যেন তা দেখে নেয়।” (বাইহাকী, সুনান কুবরা : ১৩৮৬৯) অপর এক হাদীসে রয়েছে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি মহানবী (সাঃ) এর কাছে ছিলাম। এমতাবস্থায় তাঁর কাছে এক ব্যক্তি এসে জানাল যে, সে একজন আনসারী মেয়েকে বিয়ে করেছে। তখন রাসূল (সাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি তাকে দেখেছো?’ সে বললো, না। তিনি বললেন, যাও, তুমি গিয়ে তাকে দেখে নাও। কারণ আনসারীদের চোখে (সমস্যা) কিছু একটা রয়েছে।” (মুসলিম : ৩৫৫0) ৫.বিয়েতে পাত্রীর অনুমতি নেওয়া বিয়েতে একজন নারীর অনুমতী নেওয়া খুবই জরুরী। বিয়ের সিদ্ধান্তে তার মতামত নেওয়া একজন নারীর অধিকার এবং তার পিতা বা অভিভাকদের তার ইচ্ছার বাইরে যাওয়া অনুচিত। মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেন, “একজন নারী যার পূর্বে বিয়ে হয়েছিল, বিয়ের ব্যাপারে তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তার পিতা বা অভিভাবকের তুলনায় বেশি এবং একজন কুমারী মেয়ের বিয়েতে অনুমতি নেওয়া আবশ্যিক, (তবে) নীরবতাই তার সম্মতি।” (বুখারী ও মুসলিম) ৬.বর-কনের পারস্পরিক যোগাযোগ বা বাইরে ঘুরতে যাওয়া বিয়ের আগে একজন নারী বিয়ের প্রস্তাবদানকারী পুরুষের সাথে মোবাইল, চিঠি বা ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারবেন, তবে তা শুধুমাত্র বিয়ের চুক্তি বা শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা করার জন্য এবং সে যোগাযোগ হতে হবে অবশ্যই ভাব ও আবেগবর্জিত পন্থায়। উল্লেখ্য, এ যোগাযোগ উভয়ের পিতা বা অভিভাবকের সম্মতিতেই হওয়া উচিত। তাছাড়া বিয়ের পূর্বে প্রস্তাবদানকারীর সাথে ঘুরতে বের হওয়া, সফরে যাওয়া বা নির্জনে অবস্থান করা সম্পূর্ণভাবে নিষেধ। কেননা, বিয়ে না হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সেই পুরুষ তার কেউ নয়, যতক্ষণ না পর্যন্ত তাদের বিয়ে সম্পূর্ণ হচ্ছে। ৭.একজনের সাথে বিয়ের কথা-বার্তা চলতে থাকাবস্থায় অন্য কারও প্রস্তাব না দেওয়া কোন নারীর যখন অন্য কোথাও বিয়ের জন্য কথা-বার্তা চলছে বা যখন কোন নারীর অন্য কারও সাথে বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, তখন সেই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া শরীয়তে নিষিদ্ধ। তবে প্রথম প্রস্তাবদানকারী যদি অনুমতি দেয় বা বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয়, তবে দ্বিতীয় কেউ সেই নারীকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব দিতে পারবে। সহীহ মুসলিম অনুসারে মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেছেন, “একজন বিশ্বাসী অপর বিশ্বাসীর ভাই। তাই কোন কিছু কেনার সময় এক ভাইয়ের উপর আরেক ভাইয়ের অধিক দাম হাকানো বা এক ভাই যখন কোন নারীকে প্রস্তাব দেয়(বিয়ের) তখন অন্য ভাইয়ের তাকে প্রস্তাব দেওয়া(বিয়ের) নিষেধ, যদি না সে তাকে অনুমতি দেয়।” বুখারী শরীফ অনুসারে মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেন, “একজন আরেকজনের বাগদত্তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিবে না, যতক্ষণ না সে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাহার করে অথবা তাকে অনুমতি দেয় (বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার)।” ৮.উপযুক্ত পাত্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান না করা উপযুক্ত পাত্রের কাছ থেকে বিয়ের প্রস্তাব পেলে তা নাকচ করা উচিত নয়। এ ব্যাপারে মুহাম্মাদ (সাঃ) তাগিদ দিয়েছেন। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “যদি এমন কেউ তোমাদের বিয়ের প্রস্তাব দেয়, যার ধার্মিকতা ও চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট, তবে তোমরা তার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেবে। যদি তা না করো, তবে পৃথিবীতে ব্যাপক অরাজকতা সৃষ্টি হবে।” (তিরমিযী: ১০৮৪) মুহাম্মাদ (সাঃ) আরও বলেন, “তিনটি বিষয়ে দেরি করা উচিত নয়ঃ সালাত আদায়- যখন সালাতের সময় হয়ে যায়, কবর দেওয়া- যখন জানাযা হয়ে যায় এবং একজন নারীর বিয়ে- যখন সম মর্যাদা সম্পন্ন কোন পুরুষ বিয়ের প্রস্তাব দেয়।” (আল তিরমিযী) বিয়ে বিষয়ক আরও আর্টিকেল পড়তে ভিজিট করুনঃ  বিয়েটা ব্লগ