বিয়ে আগে নাকি ক্যারিয়ার আগে?
খুব কমন প্রশ্ন যে বিয়ে আগে করতে হবে নাকি আগে জীবন সাজাতে হবে। বেশির ভাগ মানুষ এটাই বলবে যে ক্যারিয়ার আগে, তারপরে বিয়ে। আবার কেউ বলবে না বিয়ে আগে, ক্যারিয়ার পরে।
তবে এই প্রশ্নটি “বিয়ে আগে নাকি ক্যারিয়ার আগে? “ এর উত্তর আসলে এক নয়। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে বিয়ে আগেই করা উচিৎ, ক্যারিয়ার বা পড়াশুনা পরে করলেও চলবে। কিন্তু ছেলেদের ক্ষেত্রে আমাদের ধারণা যে, তাদেরকে ক্যারিয়ার অর্থাৎ আর্থিক স্বচ্ছল হওয়াকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আমরা আলোচনা করবো নিজেদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেঃ
পাত্র/পাত্রীর বিয়ের সাধারণ আলোচনাঃ
বিয়ের সিদ্ধান্ত আমাদের দেশে এখনও বেশির ভাগ সময় বাবা-মা বা অভিভাবক নিয়ে থাকেন। ছেলের বাবা-মা বা অভিভাবক সাধারণত পরামর্শ এটাই দিয়ে থাকে যে আগে নিজেকে আর্থিকভাবে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে তারপরে বিয়ে।
এর কারণ
বিয়ের পরে স্ত্রীসহ, পরিবারের অন্যান্যদের ভরণ পোষণের দায়িত্ব সাধারণত পাত্রকেই নিতে হয়। তাঁর এই দায়িত্ব পালনের জন্য পড়াশুনা শেষ করা ব্যবসা, চাকুরি বা অন্য কোন পেশা অবলম্বন করতে হয়।
এরপরেই তাকে বিয়ের জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়।
তবে কিছু ব্যতিক্রম সব ক্ষেত্রেই থাকে। যেমন কোন কোন আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবার বিয়ের উপযুক্ত হলেই সন্তানকে বিয়ে করিয়ে দেয়।
ধার্মিক পরিবারের বাবা-মা বা অভিভাবকও ছেলে বা মেয়ের বিয়ের ক্ষেত্রে বিয়ের উপযুক্ত হলেই বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা শুরু করে।
বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্রদের দায়িত্ব যেহেতু বেশি তাই তাকে ক্যারিয়ারের দিকে বেশি মনোযোগী হতে হয়।
কিন্তু পাত্রীদের ক্ষেত্রে বিয়ের বয়স হলেই বেশির ভাগ পরিবার বিয়ে দেওয়া নিয়ে চিন্তিত হয়ে পরে এবং পড়াশুনা বা ক্যারিয়ের পাশাপাশি উপযুক্ত পাত্র খুঁজতে থাকে। উপযুক্ত পাত্র পেলেই বিয়ে দিয়ে দেয়।
তাই আমরা মনে করি, বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্রদের যতটা ক্যারিয়ার আগে বিয়ে পরে মানসিকতা থাকে, পাত্রীদের ক্ষেত্রে তার বিপরীত হয়।
করনীয় কি পাত্রদের ক্ষেত্রেঃ
পাত্রদের যেহেতু দায়িত্ব বেশি তাই স্বাভাবিকভাবেই তাকে বিয়ের চাইতে ক্যারিয়ার নিয়ে বেশি ভাবতে হয়।
তবে আমরা মনে করি বর্তমানে শিক্ষিত পরিবারে এক্ষেত্রে সময় হলেই বিয়ে করা সম্ভব।
যেমন, কেউ একজন যদি গ্রাজুয়েশন শেষ করে আরেকজন শিক্ষিত পাত্রীকে বিয়ে করে এবং উভয়ে কর্ম দক্ষতা অর্জন করে তাহলে মিলেমিশে পড়াশুনা এবং বিয়ে করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে।
আমাদের দেশে যেহেতু পড়াশুনা শেষ করতে অনেক দিন সময় লাগে। আবার পড়াশুনা শেষ করলেই কিছু একটা করতে পারবে অর্থাৎ জব হবে তেমন নিশ্চয়তা নেই। তাই পড়াশুনা চলাকালীন বিশেষ কোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করলে দ্রুত বিয়ে করতে পারবে। অন্যথায় বিয়ে দেরি হয়ে যাবে।
তাই শিক্ষিত পাত্রী যার কর্ম আগ্রহ আছে তাকে বিয়ে করেও ক্যারিয়ারে সফল হওয়া যেতে পারে।
পাত্রীদের কি করনীয়ঃ
বর্তমানে সহজে বা বিয়ের উপযুক্ত বয়সে যাদের বিয়ে হয়ে যায় সেসব পাত্রীর সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে। এর বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।
যেমন, বাবা-মায়ের বা অভিভাবকদের অবহেলা, বেশি চাহিদা, প্রেম-ভালবাসার মগ্ন থেকে বা পড়াশুনা করে ক্যারিয়ার গড়তে হবেই এসব চিন্তার কারণেও সময়মত বিয়ে হয়না।
পড়াশুনা বা ক্যারিয়ার গড়তে হবে- এই চিন্তাটা যদি বিয়েসহ করা হয় তাহলে পাত্রীদের একটু শ্রম বেশি দিলেও -এটাই করা উচিৎ।
কারণ, মেয়েদের বয়স বাড়া বা ক্যারিয়ারের উন্নতির সাথে সাথে তাদের চাহিদা বাড়তে থাকে। ফলে তাদের পছন্দমত পাত্র ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
যেমন, মাস্টার্স শেষ করা ২৬/২৭ বছরের পাত্রী চাইবেনা যে মাস্টার্সের নিচে কাউকে বিয়ে করতে। সে খুঁজবে মাস্টার্স বা ডক্টরেট করা পাত্র বা আরো যোগ্যতাসম্পন্ন কাউকে। কিন্তু ঐ যোগ্যতা সম্পন্ন পাত্রদের সংখ্যা কম এবং তাঁরা ইতিমধ্যে আসলে বিয়ে করে ফেলেছে।
তাই পাত্রীদের উচিৎ বিয়ে আগে করে পড়াশুনা বা ক্যারিয়ারে ফোকাস করা। তানাহলে বেশি পড়াশুনা ও যোগ্যতার কারণে চাহিদামত পাত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

সর্বশেষ করনীয়ঃ
জীবনটা আপনার, আপনাকেই সাজাতে হবে। পাত্রদের ক্ষেত্রে বলবো, বিয়ে আপনার ক্যারিয়ারে বাধা হবেনা যদি আপনি পরিশ্রমী হন, সচেতন হন। বরং বিয়ে আপনার জীবনে আরো গতি এনে দিবে, ক্যারিয়ারে সহযোগি হবে। তাই বিয়ের উপযুক্ত হলেই বিয়ে করুন, কাজে মনযোগী হোন, ইনশাআল্লাহ আপনি সফল হবেন।
পাত্রীদেরকে বলবো, বিয়ে জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পড়াশুনা, চাকুরি, ক্যারিয়ার সব পেলেন কিন্তু স্বামী যখন খুঁজছেন তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। সহজে কাউকে আর পাচ্ছেননা, বিয়ে ছাড়াই জীবন কাটানোর চিন্তা করতে হবে একসময়। সবকিছু পেলেও স্বামী, সন্তান না পেলে নিজেকে অসহায় মনে হবে। তাই যখন আপনার প্রতি বিয়ের আগ্রহ থাকে তখনই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ। ভালো স্বামী পেলে আপনার ক্যারিয়ারের স্বপ্ন পূর্ণ না হলেও আরো অনেক কিছু পাবেন যা আপনার জীবণে পূর্ণতা এনে দিবে ইনশাআল্লাহ।
