বিয়ে ও মানব জীবন

দুনিয়াতে মানব জীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় বিয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। বিয়ে ব্যতিত মানব জীবনের সুস্থ, সুন্দর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব নয়।

বিয়ে না করার অপকারিতা

দুনিয়াতে যদি বিয়ে নামক সুন্দর পদ্ধতি না থাকতো তাহলে একদিন এই দুনিয়া মানব শূন্য হয়ে যেত। অবৈধভাবে জৈবিক চাহিদা মেটানোর ফলে যে মানব সমাজ দুনিয়ায় আসে তারা না পায় মা বাবার ভালবাসা, না পায় সভ্য জীবনের কোন সংস্পর্শ বা সঠিক দিক নির্দেশনা। ফলে তারা একদিন সমাজের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। সমাজের যত বড় বড় অপকর্ম আছে তা তাদের দ্বারাই বেশি সংগঠিত হয়। খুন, ছিনতাই,হাইজ্যাক, অপহরন,চোরাকারবারী, লুটতরাজ, ডাকাতি সহ যত দুনিয়াতে বড় বড় অপকর্ম আছে তা এইসব পরিবারের ভালবাসা, নিয়ম নীতি না পাওয়া মানুষ গুলোর দ্বারাই বেশি সংগঠিত হয়।

বিয়ে  করার উপকারিতা

 বিয়ে নামক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকার ফলে মানব সমাজে অবৈধ জৈবিক চাহিদা মেটানো থেকে রক্ষা পায়। একইভাবে নারী পুরুষ উভয়ের জৈবিক চাহিদর পূরণের পাশাপাশি অনুপম ভালবাসা তৈরি হয়। এই ভালবসাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় মানব সমাজের যত উন্নয়ন। এই ভালবাসা থেকে যখন তাদের উভয়ের মধ্য থেকে সন্তান আসে তখন তাদের মধ্যেকার ভালবাসা আরো প্রগাঢ় হয়। নিজ সন্তানের কল্যানের জন্য তখন তারা মরিয়া হয়ে উঠে। সন্তানের কল্যাণকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে যত প্রয়োজনীয় উপকরন, সুন্দর মানব সভ্যতা। সু-স্বাস্থের জন্য হাসপাতাল, সু শিক্ষার জন্য-স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা ইত্যাদি। 

আবার তাদের নিত্য চাহিদা মেটানোর জন্য গড়ে উঠে- হাট, বাজার, রাস্তা ঘাট, কল কারখানা ইত্যাদি। মানসিক বিকাশের জন্য গড়ে উঠে – পার্ক, খেলার মাঠ সহ যত প্রয়োজনীয় উপকরন। পরবর্তী জীবনে তারা নিজ মেধা ও বুদ্ধি দ্বারা গড়ে তুলে নতুন নতুন মানব কল্যানের উপকরণ। অতএব দেখা যাচ্ছে বিয়ে এবং এর সাথে জড়িত সকল কাজকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে এই মানব সভ্যতা। এছাড়া নৈতিক চরিত্রের উন্নয়ন এবং অবৈধ জৈবিক চাহিদা মেটানো থেকে বাঁচতে বিয়ের কোন বিকল্প নাই।

বিয়ে মানুষকে সু পথে চলতে বাধ্য করে। একজন বিবাহত মানুষ এর দায়িত্ব থাকে অনেক। স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের প্রতি প্রচুর দায়িত্ব বা কর্তব্য রয়েছে। এই দায়িত্ব আদায় থেকে একে অপরের প্রতি মায়া মমতাবোধ তৌরি হয় যা সমাজের সকল জায়গায় প্রভাব ফেলে।

ইসলাম ধর্মে বিয়ের গুরুত্ব

যেমন, ইসলাম ধর্মে এসেছে, মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিয়ে সম্পর্কে বলেন যার বক্তব্য এর সার সংক্ষেপ এরকম,

“বিয়ে করা আমার সুন্নাত। আর যে  আমার সুন্নাত কে মহব্বত করল, সে যেন আমাকে মহব্বত করল। আর আমাকে মহব্বত করবে সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে”।

একবার কিছু লোক এসে মহানবী হজরত মুহাম্মাদ(সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সন্মানিত বিবি উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা(রাঃ) এর কাছে এসে মহানবী হজরত মুহাম্মাদ(সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিয়মিত আমল সম্পর্কে জিগ্বাসা করল।  মা আয়েশা সিদ্দিকা(রাঃ) তখন উনার নিয়মিত আমল সম্পর্কে বললেন যা শুনে ঐ লোক গুলো বলল, আরে তার সাথে কি আমাদের তুলনা হয়,  তিনি আল্লাহর নবী। উনার  আগে পিছে সমস্ত গুনাহ হয়ে থাকলেও মাফ।

তাদের মধ্যে থেকে একজন বলল, আমি জীবনে বিয়েই করবো না সারা জীবন ঈবাদাত করে কাটিয়ে দিবো। আরেকজন বলল, আমি সারা জীবন দিনে রোজা রাখাবো- কখন রোজা ভাংবনা। আরেক জন বলল, আমি সারা রাত্রী ইবাদত করে কাটাবো কখন, রাতে ঘুমাবো না।

মহানবী হজরত মুহাম্মাদ(সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই যুবকদের এই কথা গুলো যখন জানতে পারলেন তখন  উনি বললেন, আমি আলাহর নবী এবং তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহকে ভয় করি। আমি রোজা রাখি আবার পানাহার ও করি,  রাত্র জাগরন করি আবার বিশ্রাম ও নেই। আমি বিবাহ করি -ইহাই আমার সন্নাত। আর যে আমার সুন্নাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে সে আমার উম্মত ভুক্ত নয়। বিবাহ না করে একা একা জীবন চালানর অনুমতি ইসলামে নেই। এছাড়া বিবাহের মাধ্যমে শারীরিক বহু রোগ থেকে বাঁচা যায়, স্বামী স্ত্রী একে অপরে প্রতি মায়া মহব্বতের সৃষ্টি হয়।

আর যারা বিবাহ ব্যতিত জীবন কাটায় তারা নানা ধরনের হতাশায় ভুগে। যদিও জীবনের শুরুতে বুঝতে না পারলেও জীবনের শেষ দিকে এসে বিবাহের প্রয়জনীয়তা অনুভুব করতে থাকে।

ইউরোপ আমেরিকা- সহ গোটা দুনিয়া আজ বিবাহের গুরুত্ব ও প্রয়জনীয়তাকে স্বীকার করছে এবং তারা একটি সুন্দর জীবনের জন্য বিবাহের কোন বিকল্প নেই তা মেনে নিচ্ছে।

উপসংহার

পরিশেষে একটি কথা বলা জরুরী বিবাহের একটি সময় আছে সেই সময়েই সকলকে এই এই গুরুত্বপুর্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ। আশা করি সবাই আমরা যারা বিবাহের উপযুক্ত তারা সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবো। বিয়েকে কেন্দ্র করেই সারা দুনিয়ার আসলে সকল কাজ সংগঠিত হচ্ছে। সকল কর্ম কান্ডের পিছনে নীরবে ভুমিকা পালন করে যাচ্ছে এই বিয়ে। হ্যাঁ তারপরও কিছু মানুষ আছে যারা এই বিয়ে না করেই জীবন কাটাচ্ছে। এই সংখ্যা আসলে খুবই কম। বিয়ে না করে যেসব মানুষ অবৌধভাবে সন্তান জন্মদান করছে তাদের ঐ সন্তান এবং অন্যান্য সন্তানের মধ্যে মুলত একটি বিরাট নীরব পার্থক্য বিরাজমান রয়েছে যা কোন একদিন তার কর্মকান্ড দ্বারা প্রকাশ পায়।

 

 

Share on

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *