বিয়ে সহজ হলে কমতো পাপাচার; আমরা কি ভুল পথে হাঁটছি?

বিয়ে সহজ হলে কমতো পাপাচার; আমরা কি ভুল পথে হাঁটছি?

আমাদের সমাজে ‘বিয়ে’ এখন আর কেবল দুটি মনের মিলন বা একটি পবিত্র বন্ধন নয়; বরং এটি অনেকের কাছেই আভিজাত্য প্রদর্শনের বড় একটি মঞ্চ। 

আমরা মুখে ইসলামের কথা বললেও, বিয়ের রীতিনীতিতে কতটুকু ইসলামিক আদর্শ মানছি, তা নিয়ে ভাববার সময় এসেছে। 

মূলত ইসলামিক নিয়মগুলো থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণেই আজ আমাদের সমাজে বিয়েটা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।

১. অপচয় এবং লৌকিকতা

ইসলাম শিখিয়েছে, “সবচেয়ে বরকতময় বিয়ে হলো তা, যা সবচেয়ে কম খরচে সম্পন্ন হয়।” (বায়হাকি)। কিন্তু বাস্তবে আমরা কী দেখছি? প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে গায়ে হলুদ, মেহেদি নাইট এবং রাজকীয় সব আয়োজনে লাখ লাখ টাকা খরচ করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত খরচের চাপে অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার সময়মতো ছেলে-মেয়ের বিয়ে দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

২. দেনমোহরের ভুল ধারণা

দেনমোহর নারীর অধিকার, যা স্বামীর সামর্থ্য অনুযায়ী নির্ধারণ করার কথা। কিন্তু বর্তমানে এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে বংশীয় মর্যাদার প্রতীক। আকাশচুম্বী দেনমোহর ধার্য করার ফলে অনেক যুবক বিয়ের সাহস হারিয়ে ফেলছে। অথচ দেনমোহর হওয়া উচিত ছিল সহজসাধ্য, যা দাম্পত্য জীবনের শুরুটাকে সহজ করে।

৩. মোহরানা বনাম যৌতুক

সরাসরি যৌতুক না নিলেও ‘উপহার’ বা ‘ফার্নিচার’ এর নামে পরোক্ষ যৌতুকের যে প্রথা চলছে, তা ইসলামে পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কনের বাবার ওপর এই আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার কারণেই অনেক যোগ্য মেয়েকে বিয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে বছরের পর বছর। একইভাবে মোহরনা ধরা হচ্ছে কি যৌতুক পেল তার উপর নির্ভর করে। অর্থাৎ যত যৌতুক তত মোহরানা- এই ধারণাটাও সঠিক নয়। 

৪. পর্দা এবং মাহরাম বিধানের অবজ্ঞা

ইসলামিক নিয়মে বিয়ের অনুষ্ঠানে নারী ও পুরুষের আলাদা বসার ব্যবস্থা এবং শালীনতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বর্তমানের ‘মিক্সড’ পার্টি কালচার অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে বিমুখ করে তুলছে। বিয়ের পবিত্রতা যখন ডিজে আর গানের আওয়াজে হারিয়ে যায়, তখন সেখান থেকে বরকত উঠে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।

৫। একই সাথে একাধিক পাত্র/পাত্রী দেখা

বর্তমানে একই সাথে একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে বা গ্রহণ করা হচ্ছে। যারফলে, সিদ্ধান্ত নিতে পারছেনা কেউ। অথচ সুন্নাত হল “কোণ প্রস্তাবের উপরে প্রস্তাব দেওয়া যাবেনা।” অর্থাৎ কারো বিয়ের কথাবার্তা চলছে এই অবস্থায় নতুন প্রস্তাব গ্রহণ করা যাবেনা।

বিয়ের সহজী করণে আমাদের করণীয়

বিয়েকে সহজ করতে এবং যুবসমাজকে চারিত্রিক অবক্ষয় থেকে বাঁচাতে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা জরুরি:

  • অনাড়ম্বর অনুষ্ঠান: সুন্নাহ অনুযায়ী মসজিদ বা সাদামাটা আয়োজনে বিয়ে সম্পন্ন করার মানসিকতা তৈরি করুন।
  • দেনমোহর নির্ধারণে বাস্তবতা: লোকদেখানো পরিমাণের বদলে স্বামীর সামর্থ্য বিবেচনা করুন।
  • সহজ শর্ত: পাত্র-পাত্রীর যোগ্যতা হিসেবে বংশ বা সম্পদের চেয়ে দ্বীনদারি ও চরিত্রকে অগ্রাধিকার দিন।

শেষ কথা

বিয়ে আল্লাহর একটি নেয়ামত। যখন আমরা এই নেয়ামতকে মানুষের তৈরি কঠিন নিয়মের বেড়াজালে বন্দি করি, তখন সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আসুন, আমরা ইসলামি মূল্যবোধে ফিরে যাই এবং বিয়েকে সাধ্যের মধ্যে নিয়ে আসি। মনে রাখবেন, বিয়ে যত সহজ হবে, সমাজ তত কলুষতামুক্ত থাকবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.