ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ে

আদর্শ পরিবার গঠন, মানুষের জৈবিক চাহিদা পূরণ এবং মানসিক প্রশান্তি লাভের প্রধান উপকরন হচ্ছে বিয়ে। ইসলামে নারী-পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য বিয়েই হচ্ছে একমাত্র বৈধ উপায়। বিয়ের দ্বারা পাপ কর্ম থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। জৈবিক চাহিদা পূরণ হয়। নৈতিক চরিত্রের হিফাজত হয়। বংশ পরম্পরা অব্যাহত থাকে। সুখময় সমাজ ও আদর্শ পরিবার গঠন সম্ভব হয়। মানসিকভাবে সবাই সুস্থ থাকে। মনে প্রশান্তি আসে। স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্ক গভীর হয়।

বিয়ের ফযিলত অপরিসীম। ছেলেমেয়েদের বিয়ে দেয়া পিতার দায়িত্ব। যদি পিতা না থাকে তাহলে তার অভিভাকের কর্তব্য হলো ছেলেমেয়েদের ভালো পাত্র দেখে বিয়ে দিয়ে দেয়া। পবিত্র কোরআন শরীফে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “আর তোমরা তোমাদের সন্তানদের বিয়ে দাও যাদের স্বামী বা স্ত্রী নেই। আর তোমাদের বিয়ের যোগ্য দাস-দাসীদের বিয়ে দাও।’ (সুরাঃ নূর-৩২)

বিয়ে করা নবীর সুন্নত। ইসলামের অন্যতম রীতি ও বিধান। হাদিস শরীফে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি বিয়ে করল তার অর্ধেক দ্বীন-ঈমান পূর্ণ হয়ে গেল, সে যেন বাকি অর্ধেকের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করে চলে’।-মিশকাত শরীফ।

রাসূল (সা.) আরো ইরশাদ করেন, ‘বিবাহ হলো ঈমানের অর্ধেক, যে ব্যক্তি ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিয়ে করলো না,  সে আমার দলভুক্ত নয়’।

বিয়ের প্রচলন

আমাদের আদি পিতা হজরত আদম (আ.) পৃথিবীতে আগমন করার পর তিনি কি যেন একটি শূন্যতাবোধ করছিলেন। তার এ শূন্যতা পূরণ তথা মানসিক প্রশান্তি লাভের জন্যই মহান রাব্বুল আলামিন হযরত আদম (আ.)-এর পাঁজর থেকে সৃষ্টি করলেন হজরত হাওয়া (আ.) কে। ফলে আদম (আ.) এর অশান্ত মন প্রশান্তিতে ভরে ওঠে এবং জান্নাতের হিমেল ছায়ায় তাদের পবিত্র বিবাহ সংঘটিত হয়। উক্ত বিবাহে অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন ফেরেশতারা। আর এ বিবাহই হচ্ছে সর্বপ্রথম বিবাহ। এখান থেকেই বিয়ের প্রচলন শুরু হয়।

বিয়ের প্রকারভেদ

ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ে ৫ ধরনের হতে পারে। এগুলো হলঃ

ওয়াজিব বিয়ে

যখন বিয়ে প্রয়োজন তথা দেহ-মনে তার চাহিদা থাকে। তার এই পরিমাণ সামর্থ্য থাকে যে প্রতিদিনের খরচ প্রতিদিন উপার্জন করে খেতে পারে। তখন বিয়ে করা ওয়াজিব। বিয়ে থেকে বিরত থাকলে গুণাহগার হবে।

ফরজ বিয়ে

যদি সামর্থ্য থাকার সাথে সাথে চাহিদা এতো বেশি থাকে যে, বিয়ে না করলে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তবে বিয়ে করা ফরজ।

সুন্নাত বিয়ে

যদি বিয়ের চাহিদা না থাকে কিন্তু স্ত্রীর অধিকার আদায়ের সামর্থ্য রাখে তবে বিয়ে করা সুন্নত।

নিষিদ্ধ বিয়ে

যদি কারো আশংকা হয় সে স্ত্রীর অধিকার আদায় করতে পারবে না। চাই তা দৈহিক হোক বা আর্থিক হোক। তার জন্য বিয়ে করা নিষিদ্ধ।

মতভেদপূর্ণ বিয়ে

যদি চাহিদা ও প্রয়োজন থাকে কিন্তু সামর্থ্য না থাকে, তাহলে তার বিয়ের ব্যাপারে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। তবে ওয়াজিবের মতটিই অগ্রগণ্য। সামর্থ্য কষ্ট-শ্রম ও ঋণ করার দ্বারা অর্জন হয়। যদি সে তা আদায় করার পরিপূর্ণ ইচ্ছা রাখে, আদায়ের চেষ্টাও করে। যদি সে আদায় করতে না পারে তবে আশা করা যায় আল্লাহ তার ঋণদাতাকে রাজি করিয়ে দিবেন। কেননা সে দ্বীনের সংরক্ষণের জন্য ঋণ করেছিলো। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য ঋণ করা নাজায়েয। বরং ভরণ-পোষণ ও মোহরানা আদায় করার জন্য -যদি তা নগদ প্রদান করতে হয়, তবে ঋণ করতে পারবে।

বিয়ে বিষয়ক আরও আর্টিকেল পড়তে ভিজিট করুন বিয়েটা ব্লগ

Share on

1 thought on “ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ে

  1. “বিয়ের ব্যাপারে ইসলামের পরিপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি জানা ছিল না।
    ধন্যবাদ এই লেখাটার জন্যে। নতুন কিছু জানতে পারলাম। “

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.