এ সমাজ না মানছে বিজ্ঞান, না মানছে ইসলাম

পুঁজিবাদী সমাজের বেঁধে দেয়া বিয়ের বয়সের কারনে “Late Marriage” এর প্রচলন দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হল পুঁজিবাদী সমাজ অর্থনীতিকে বেশি গুরুত্ব দেয়। যেকোন বিষয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবার সময় তারা মূলত সে বিষয়ের “Economical ” দিকের কথা চিন্তা করেই সিদ্ধান্ত দেয়। “Biological,Physical” দিক তারা বেশি গুরুত্ব দেয় না। বিয়ের ক্ষেত্রেও তারা “Economical ” দিক বেশি গুরুত্ব দেয় যেখানে তাদের বেশি গুরুত্ব দেবার কথা ছিল “Biological” দিককে।ফলে যাই হবার তাই হচ্ছে,মানুষ দেরি করে বিয়ে করে যৌন রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাচ্ছে,স্বামী/স্ত্রীর অক্ষমতার কারনে ডিভোর্স এর ঘটনা বেশি হচ্ছে। “Late Marriage” এর কারনে নারী-পুরুষ উভয়ই তাদের বিবাহিত জীবনে নানা ধরনের ঝামেলার মুখোমুখি হয়।

১) পুরুষরা সাধারণত যেসব ঝামেলার মুখে পড়ে

বর্তমানে পুরুষরা নারীদের থেকে অনেক বেশি “Late Marriage” করছে। কারণ একটাই সেটা হল “ক্যারিয়ার”। বেশিরভাগ পুরুষই এখন ৩০-৪০ বছর বয়সের মধ্য বিয়ে করছে ,ফলে অনেকেই বিবাহিত জীবনে নানান ধরনের ঝামেলার মুখে পড়ছে।
ক) পুরুষদের মাঝে একটা ভুল ধারণা আছে যে,বয়স বাড়ার সাথে তাদের Fertility কমে। বরং বেশ কিছু রিসার্চে প্রমাণিত হয়েছে যে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে পুরুষের Fertility কমতে থাকে যদিও নারীদের তুলনায় ধীরে কমে। বয়স্ক পুরুষ তার স্ত্রীর ” Miscarriage ( loss of an embryo or fetus before the 20th week of pregnancy)” এ অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। পূঁজিবাদী সমাজে নারীদের বয়স বৃদ্ধি পাবার সাথে সাথে সন্তান জন্ম দানের ক্ষমতা হ্রাস পাবার বিষয়টাকে যতটা গুরুত্বের সাথে দেখা হয়,পুরুষদের ক্ষেত্রে ততটা গুরুত্বের সাথে দেখে না।

এই সম্পর্কে Dr. Harry Fisch বলেন, “Not only are men not aware of the impact their age has on infertility, they deny it. They walk around like they’re 18 years old,” ২০০২ থেকে ২০০৬ এর মাঝে “Miscarriage” এর সম্ভাবনা নিয়ে এক গবেষণায় দেখা যায় যাদের বয়স ৩০-৩৪ বয়স তাদের “Miscarriage” হবার সম্ভাবনা ১৬.৭% ,যাদের বয়স ৩৫-৩৯ তাদের ১৯.৫% এবং যাদের বয়স ৪০ এর উপর তাদের ৩৩%।

খ) পুরুষ যদি দেরি করে সন্তান গ্রহণ করে তাহলে সেই সন্তানের মাঝে জেনেটিক্যাল এ্যাবনরমালিটি দেখার সম্ভাবনা থাকে। আর এই সম্ভাবনা বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়তে থাকে। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাদের বয়স ৪৫-৪৯ তাদের সন্তানের Schizophrenia রোগ হবার দ্বিগুণ ঝুঁকি আছে তাদের তুলনায় যাদের বয়স ২৫ বা তার কম।

গ) Male’s Sexual Response Cycle-
Sexual Response Cycle এর ৪টা Phase আছে-
i) The Excitement Phase
ii) The Plateau Phase
iii) The Orgasm/Climax Phase
iv) The Resolution Phase
Aging দ্বারা এই চারটা ফেজই ইফেক্টেড হয়

i) The Excitement Phase- বয়স বাড়ার সাথে সাথে Erection হতে সময় বেশি লাগে। কারন টেস্টোস্টেরন হরমোনের পরিমান বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে কমতে থাকে। মিড-টুইন্টির পর থেকে এই হরমোনের Gradual Decline হতে থাকে। নিচের ফিগারটিতে এটা স্পষ্ট-
ii) The Plateau Phase- পুরুষের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে যৌনাঙ্গের Muscle Tension (Myotonia) কমতে থাকে। ফলে Erection ‘Softer’ হতে থাকে।
iii) The Orgasm Phase- বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে Orgasm এর Intensity কমে যেতে পারে।Ejaculation Pressure এবং Volume of Semen ও কমতেপারে।
iv) The Resolution Phase- ২০-২৫ বছরের একজন পুরুষ সংগমের পর মাত্র আধ ঘন্টার মধ্যেই পুনরায় সংগম করার জন্য প্রস্তুত হয়।এক সংগমের পর আরেক সংগমের জন্য প্রস্তুত হওয়ার বিরতিকে ‘Refractory Period’বলে।আর এই ‘Refractory Period” এর সময় বয়স বৃদ্ধি পাবার সাথে সাথে বৃদ্ধি পায়।
Dr. EveroldHoseinএই বিষয়ে বলেন-
“ In one’s late 20s, the (refractory) period maybe 15-30 minutes between orgasms. In one’s 40s, the period iseven longer and may be as long three to four hours. ”
Refractory Period বয়সের সাথে কমতে থাকার মানে হল সেক্সুয়াল ইন্টাকোর্সও কমতে থাকা।
ঘ) বয়স বাড়ার সাথে সাথে পুরুষের স্পার্ম কোয়ালিটি দুর্বল হতে থাকে।জার্মানির বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে বের করেছেন যে বয়স বাড়ার সাথে সাথে একজন পুরুষের স্পার্মের পরিমাণ কমতে থাকে (মানে স্পার্মাটোজেনেসিস কমতে থাকে) ,স্পার্মের motility (ability to move toward its destination, an awaiting egg) কমতে থাকে এবং স্পার্ম গাঠনিকভাবে দুর্বল হতে থাকে। Embryologist Yves Menezoএই বিষয়ে মত দেন যে বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্পার্মে Genetic Defects সৃষ্টি হয়।

২) নারীরা সাধারণত যে ধরনের ঝামেলার মুখোমুখি হয়

ক) নারীরা দেরিতে বিয়ে করার ফলে যে সমস্যা সবচেয়ে বেশি ভুগেন তা হল ” Miscarriage ( loss of an embryo or fetus before the 20th week of pregnancy)” . একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে,যাদের বয়স ২০-২৫ তাদের Miscarriage এর ঝুঁকি হল ১০%, যাদের বয়স ২৬-৩০ তাদের ২০%।

খ) নারীদের ‘Fertility rate’ ‘ (সন্তান জন্ম দানের ক্ষমতা) বয়স বাড়ার সাথে সাথে হ্রাস পায়। অর্থাৎ বয়স বাড়ার সাথে সাথে নারীদের ‘Infertility rate’ বাড়তে থাকে। তার মানে ২০-২৫ বয়সের নারী্রা যতটুকু Fertile, ২৬-৩০ বয়সের নারীরা তত Fertile হবে না। বেশিরভাগ নারীদের ‘Fertility rate’ সর্বোচ্চ হয় ২৪ বছর বয়সে। আর এইজন্য নারীদের ‘Fertility rate’ যখন উপরে উঠতে থাকে মানে তখন তাদের বিয়ে করার সবচেয়ে ভাল সময় হয়,অর্থাৎ যখন তাদের বয়স ১৭-২৪ হয়। তাছাড়া নারীদের এই সময় কনসিভ করাও সহজ কারন এই সময়ে তাদের ব্লাড প্রেসারের ঝামেলা ,ডায়াবেটিস এবং Gynecological প্রবলেম যেমন Fibroids,endometrisisএর সম্ভাবনা কম থাকে।

গ) কোন নারী যদি দ্রুত সন্তান নিতে পারে তাহলে তার ব্রেস্ট ক্যান্সারের রিস্ক কমে যায়। কারন প্রেগনেন্সি হরমোনগুলো Cancer-preventive Drugs এর মত কাজ করে। Florence Williams তার বই Breasts এ উল্লেখ করেছেন-
“A woman who has her first child before age twenty has about half the lifetime risk of breast cancer as a nonmother or a mother who waits until her thirties to have children.”

ঘ) বয়স বাড়ার সাথে সাথে নারীদের ডিম্বাণুর Quality খারাপ হতে থাকে। এই সম্পর্কে Connie Matthiessen বলেন, “As you get older, your ovaries age along with the rest of your body, and your eggs become less viable. For that reason, younger women’s eggs are less likely than older women’s to have genetic abnormalities that result in Down syndrome and other birth defects.”  এখন অনেককে দেখা যায় পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় প্রভাবিত হয়ে ২৬-২৭ বছরে বিয়ে করে এবং কনসিভ করতে করতে বয়স গিয়ে দাঁড়ায় ত্রিশের কোঠায়।এই কারণেই মানব সমাজের একটা বিরাট অংশ আজকে জেনেটিকালি দুর্বল হচ্ছে।মানে ফিজিক্যাল,বায়োলজিক্যাল দিক থেকে দুর্বল হচ্ছে।নারীদের মনে রাখা উচিত যে সুস্থ ও সবল মানব শিশু জন্মদানে তাদের ভূমিকাই বেশি।বর্তমানে দেরি করে সন্তান নেয়ার ফলে যেসব অসুবিধা পৃথিবীতে দেখা যাচ্ছে তা এক কথায় ফুটিয়ে তুলেছেন The New Republic এর, science editor Judith Shulevitz।তিনি বলেন,”“For we are bringing fewer children into the world and producing a generation that will be subtly different—‘phenotypically and biochemically different,’ as one study I read put it—from previous generations.”

 

এখন যে কথাটা জানা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে-Aging হল একটা রিস্ক ফ্যাক্টর। Aging ছাড়াও আরো আছে ফ্যাক্টর যার কারনে সেক্সুয়াল কমপ্লিকেশন দেখা যেতে পারে। যেমন- Smoking,Medication (কিছু ট্রিটমেন্টে ব্যবহৃত মেডিসিনের সাইড ইফেক্টের জন্য) ,Obesity,Stressetc কারনে সেক্সুয়াল প্রবলেম দেখা যেতে পারে। যদি কারো মাঝে একাধিক ফ্যাক্টর উপস্থিত থাকে তাহলে সেক্সুয়াল প্রবলেমের প্রতি তার Vulnerabilityও বাড়বে। দু:খের বিষয় হল আমরা অন্যান্য রিস্ক ফ্যাক্টর সম্পর্কে সচেতন থাকলেও Aging এর বিষয়টা এড়িয়ে যাচ্ছি।
শেষ কথাঃ আসলে দেরিতে বিয়ে করার শারীরিক অপকারিতার থেকে আত্মিক অপকারিতা বেশি। আমি আসলে ইসলামের আলোকে লেখাটা লিখি নাই।আমি এই লেখা দিয়ে এটা বুঝাতে চেয়েছি যে এই পুঁজিবাদী সমাজ একটা জাহেল সমাজ, এই সমাজ না বিজ্ঞান মানছে না ইসলাম মানছে যদিও বিজ্ঞান ইসলামের প্রতিটি বিধানের সাথে একমত। মুসলিমরা জীবনের কোন সিদ্ধান্ত নেবার সময় বিজ্ঞানকে সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নেয় না, সিদ্ধান্ত নেয় আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টি সামনে রেখে।আর এই জন্যই অনেক মুসলিম নিজেকে পবিত্র রাখার জন্য দ্রুত বিয়ে করতে চাইছে কিন্তু এই পুঁজিবাদী সমাজ তাতে বাধা দিচ্ছে। তাই আমাদের সবারই উচিত দেরি করে বিয়ে করার আত্মিক ও শারীরিক উপকারিতা এই সমাজের কাছে তুলে ধরা,সমাজের কাছে তুলে ধরতে না পারলেও অন্তত পরিবারের কাছে তো খুলে বলা যায়ই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *